
অযোধ্যার রাম মন্দিরে ভক্তদের দেওয়া অনুদান ও মূল্যবান সামগ্রী ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর উত্তর প্রদেশ সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। একই সঙ্গে মামলা করে আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিরোধীদের দাবি, এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার রাজনৈতিক চাপে পড়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, উত্তর প্রদেশের অযোধ্যায় অবস্থিত রাম মন্দিরের দেখভালের দায়িত্বে থাকা শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের আর্থিক লেনদেন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এ মাসের শুরুতে ট্রাস্টের হিসাবরক্ষণ দলের সাবেক পরিদর্শক মহিপাল সিং বিষয়টি সামনে আনেন। পরে সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব অভিযোগ করেন, ভক্তদের দেওয়া কোটি কোটি রুপি ও মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব মিলছে না।
অভিযোগের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তর প্রদেশ সরকার তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। রাজ্য পুলিশ ফৌজদারি মামলা দায়ের করে নগদ অর্থ ও মূল্যবান উপহার গণনার দায়িত্বে থাকা আটজন কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনার পর ট্রাস্টের সাধারণ সম্পাদক চম্পত রায়সহ কয়েকজন ট্রাস্টি পদত্যাগ করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
ঘটনার পর দাতাদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অনেকে ট্রাস্টের কাছে নিজেদের দেওয়া সোনা, রুপাসহ অন্যান্য মূল্যবান সামগ্রীর হিসাব জানতে চাইছেন। এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘ট্রাস্টের কর্মকর্তারা আমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং ধর্মীয় আবেগকে লুট করেছে।’
রাম মন্দির আন্দোলনের নেতা সন্তোষ দুবেও এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জড়িতদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘কিছু ধূর্ত ও লোভী চোর এখন এই রাম মন্দির পরিচালনা করছে।’
রাজনৈতিক বিশ্লেষক রশীদ কিদওয়াইয়ের মতে, এই অভিযোগ আগামী বছরের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য উত্তর প্রদেশের নির্বাচনে বিজেপির জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তার মতে, ধর্মীয় ইস্যুকে ঘিরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক অবস্থানের ওপরও এ ঘটনার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা