
অধিকৃত পশ্চিম তীরের বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি বাহিনী। এ সময় ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে এক নিরাপত্তাকর্মীকে মারধর এবং বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। তবে এ ঘটনার পরও বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্বনির্ধারিত পরীক্ষার সূচিতে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (২৯ জুন) প্রকাশিত এক আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে বলা হয়, রামাল্লার কাছে অবস্থিত বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি সেনারা পূর্ব দিক দিয়ে প্রবেশ করে শারীরিক শিক্ষা অনুষদের ভবনে ঢোকে। সেখানে আসবাবপত্র ও অন্যান্য সামগ্রী ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফেসবুকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, অভিযানের কারণে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই অনুষ্ঠিত হবে। একই সঙ্গে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানের পর ক্যাম্পাসের ক্ষয়ক্ষতির কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করা হয়েছে।
এটি বীরজিট বিশ্ববিদ্যালয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রথম অভিযান নয়। অতীতেও একাধিকবার সেখানে অভিযান চালিয়ে শিক্ষার্থীদের গ্রেপ্তার, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা এবং ছাত্র সংগঠনের নথিপত্র ও বিভিন্ন সামগ্রী জব্দ করার অভিযোগ ওঠে।
সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ৮ অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি সেনা ও বসতি স্থাপনকারীদের হামলায় অন্তত ১ হাজার ১৭৩ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন ১২ হাজার ৬৬৬ জন এবং প্রায় ২৩ হাজার ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ফিলিস্তিনিদের আশঙ্কা, পশ্চিম তীরে ধারাবাহিক এসব অভিযান ও সামরিক তৎপরতার মাধ্যমে অঞ্চলটি কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে ইসরায়েল। তাদের মতে, এতে জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সম্ভাবনা আরও সংকুচিত হতে পারে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি