
আদালতের মতো সুরক্ষিত জায়গায় ঢুকে এক প্রবীণ আইনজীবীকে পিটিয়ে রক্তাক্ত করার ঘটনা নাটোরে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।
সোমবার (২৯ জুন) দুপুরে নাটোর জজকোর্ট ভবনে আইনজীবী আসাদুল ইসলাম আসাদের শেরেস্তায় (আইনজীবীদের বসার কক্ষ) এই হামলার ঘটনা ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আহত ওই আইনজীবীকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মারধরের শিকার আসাদুল ইসলাম আসাদ নাটোর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
আদালত ও স্থানীয়দের সূত্রে জানা যায়, নাটোরের সিংড়া উপজেলার চামারী ইউনিয়নের মহিষমারী এলাকার একটি জমি নিয়ে কাবিল উদ্দিন নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে আইনজীবী আসাদুল ইসলামের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। ওই বিতর্কিত জমিটির ওপর আদালতে একটি নিষেধাজ্ঞার আবেদন করেছিলেন আইনজীবী আসাদুল। আদালত সেই আবেদনটি গ্রহণ করে নিষেধাজ্ঞা জারি করলে চরম ক্ষিপ্ত হন কাবিল উদ্দিন। এরই জেরে সোমবার দুপুরে তিনি সরাসরি জজকোর্টে আইনজীবীর শেরেস্তায় এসে প্রথমে বাকবিতণ্ডায় জড়ান।
কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কাবিল উদ্দিন সঙ্গে আনা লাঠি দিয়ে আইনজীবী আসাদুল ইসলামকে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে জখম করেন। ওই সময় চিৎকার শুনে পাশের অন্যান্য আইনজীবী ও তাদের সহকারীরা দ্রুত এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আইনজীবী আসাদুল ইসলাম আসাদ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
‘হামলাকারী কাবিল আমাকে হত্যার প্রস্তুতি নিতেই আদালতে এসেছেন। তার ঝুলিতে হাতুড়িসহ আরও অস্ত্র ছিল। আইনজীবীরা আমাকে রক্ষা করে হাসপাতালে এনেছেন।’
আদালত চত্বরে এমন আইন অমান্যের ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলা আইনজীবী সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট লুৎফর রহমান রাব্বানী বলেন:
‘আদালত ভবনে একজন সিনিয়র আইনজীবীকে পেটানোর ঘটনা আমাদের হতবাক করেছে। এমন সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ জানিয়ে দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।’
ঘটনার পর পরই আদালত প্রাঙ্গণে থাকা পুলিশ ও আইনজীবীরা তৎপর হয়ে অভিযুক্তকে বাগে আনেন। নাটোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুনসুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান:
‘ঘটনার পর হামলাকারী কাবিল উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। এখনও লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে।’