
ভয়াবহ ভূমিকম্পে বিপর্যস্ত ভেনেজুয়েলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হন দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো। এরপর থেকে ওয়াশিংটন ভেনেজুয়াকে লাতিন আমেরিকায় নতুন মিত্র হিসেবে বিবেচনা করছে।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, ভেনেজুয়ায় দ্রুত, কার্যকর এবং সরকারের সব সংস্থাকে সম্পৃক্ত করে উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে তিনটি বিশেষায়িত নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি জরুরি সহায়তার জন্য ১৫ কোটি ডলারের তহবিল ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভেনেজুয়ায় পাঠানো ডিজাস্টার অ্যাসিস্ট্যান্স রেসপন্স টিম (ডার্ট)-এ ২৫০ জনেরও বেশি সদস্য কাজ করছেন। দুর্যোগ মোকাবিলায় অভিজ্ঞ সাবেক কর্মকর্তাদের মতে, কোনো আকস্মিক দুর্যোগের প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যে এত বড় অঙ্কের সহায়তা ঘোষণা সাম্প্রতিক সময়ে খুব কমই দেখা গেছে।
এই অভিযান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ক্ষমতায় ফিরে যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা ইউএসএআইডি (ইউএসএইড)-এর কার্যক্রম ব্যাপকভাবে সংকুচিত করা হয়েছে এবং দুর্যোগ সহায়তার দায়িত্ব পররাষ্ট্র দপ্তরের অধীনে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাজারো সহায়তা কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
শুক্রবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেন, কারাকাসে ভয়াবহ ভূমিকম্পে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং সেখানে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক কর্মী সহায়তা কার্যক্রমে নিয়োজিত আছেন। তিনি দাবি করেন, মাদুরোকে আটক করার পর থেকে ভেনেজুয়ার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে।
ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়ায় বিপুল পরিমাণ তেল উৎপাদনে সহায়তা করেছে এবং দেশটি এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি আয় করছে। ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি সত্ত্বেও তিনি ভেনেজুয়াকে আবারও একটি সুখী দেশে পরিণত হওয়ার দাবি করেন।
এদিকে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভয়াবহ এই ভূমিকম্পে অন্তত ৯২০ জন নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা সুসান রাইখলে বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য এটি প্রথম বড় ধরনের দুর্যোগ মোকাবিলার পরীক্ষা। তার মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৭২ ঘণ্টা জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
ভেনেজুয়ার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ জানিয়েছেন, উদ্ধারকারীরা ধ্বংসস্তূপ থেকে ইতোমধ্যে বহু মানুষকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তিনি বলেন, জীবিতদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিতে পারা তাদের জন্য বড় স্বস্তির বিষয়।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা নীতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। মানবিক সহায়তার পরিবর্তে পারস্পরিক স্বার্থকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে ওয়াশিংটন। সেই প্রেক্ষাপটে ভেনেজুয়ায় চলমান এই উদ্ধার অভিযান শুধু মানবিক নয়, রাজনৈতিকভাবেও ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পররাষ্ট্রনীতি বিশ্লেষক স্যাম ভিগারস্কি বলেন, উদ্ধারকারী দল পাঠানো, নগর অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম শুরু এবং দ্রুত আর্থিক সহায়তা ঘোষণার দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান পদক্ষেপ অতীতের তুরস্ক ও হাইতির ভূমিকম্প-পরবর্তী উদ্যোগের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করাও ওয়াশিংটনের কৌশলগত স্বার্থের অংশ।