
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের রাজনীতিতে দীর্ঘ টানাপোড়েন ও জোট-নাটকীয়তার অবসান ঘটিয়ে শেষ পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন চন্দ্রশেখর জোসেফ বিজয়, যিনি থালাপতি বিজয় নামে বেশি পরিচিত। রোববার (১০ মে) স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যপাল রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার।
নতুন সরকারের মন্ত্রিসভাতেও শপথ নেন একাধিক নেতা। তাদের মধ্যে রয়েছেন এন আনন্দ, আধব অর্জুন, রাজমোহন, আর নির্মল কুমার, পি ভেঙ্কটরামানান, কে জি অরুণ রাজ, কে এ সেনগোট্টাইয়ান, টি কে প্রভু এবং সেলভি এস কীর্তনা।
অনুষ্ঠানটি ছিল রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক উপস্থিতিতে সমৃদ্ধ। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের শীর্ষ নেতা ও লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী, থালাপতি বিজয়ের বাবা-মা, অভিনেত্রী তৃষ্ণা কৃষ্ণানসহ আমন্ত্রিত অতিথি ও বিপুল সংখ্যক সমর্থক। ভারতীয় জনতা পার্টির রাজ্য পর্যায়ের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক ইতিহাসে এবারই প্রথমবারের মতো একাধিক দল নিয়ে জোট সরকার গঠন হয়েছে। এর আগে সরকার গঠন নিয়ে কয়েকদিন ধরে চলা রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দরকষাকষির পর পরিস্থিতি চূড়ান্ত রূপ নেয়।
গত সোমবার ঘোষিত নির্বাচনের ফলাফলে সবচেয়ে বেশি আসন পায় থালাপতি বিজয়ের রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেটরি কাজাগাম (টিভিকে), যারা ১০৮টি আসনে জয় পায়। বিজয় নিজে দুটি আসনে জয়ী হন।
তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। শুক্রবার পর্যন্ত টিভিকের সমর্থন ১১৬ আসনে সীমিত ছিল, ফলে সরকার গঠনের আহ্বান আটকে যায়।
পরবর্তীতে বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে) এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) আনুষ্ঠানিকভাবে টিভিকের পক্ষে অবস্থান নেয়। এ দুই দলের চারটি আসন যোগ হয়ে জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১২০ আসনে।
এর পাশাপাশি ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিআই) এবং ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি (মার্ক্সবাদী) সিপিআই(এম)-এর সমর্থনপত্রও গভর্নরের কাছে জমা দেওয়া হয়।
জোট সমর্থন নিশ্চিত হওয়ার পর গতকাল গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার থালাপতি বিজয়কে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানান। এর মধ্য দিয়েই তামিলনাড়ুর রাজনৈতিক অচলাবস্থার অবসান ঘটে এবং নতুন সরকারের পথ উন্মুক্ত হয়।