
চীনের ক্রমবর্ধমান সামরিক চাপের বিপরীতে নিজেদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের প্রতিরক্ষা বাজেট অনুমোদন করেছে তাইওয়ানের পার্লামেন্ট। বেইজিংয়ের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সামরিক সরঞ্জাম কেনার জন্য ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের এই বিশেষ প্যাকেজ পাস করা হলেও তা সরকারের চাওয়া বরাদ্দের তুলনায় অনেকটা কম।
অস্ত্র ক্রয়ে বিশাল বিনিয়োগ
শুক্রবার (৮ মে) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয় যে, নতুন পাস হওয়া এই বাজেটের সিংহভাগ ব্যয় করা হবে অত্যাধুনিক সব সমরাস্ত্র সংগ্রহে। এই বিশেষ প্যাকেজের আওতায় তাইওয়ান হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম (HIMARS), সেলফ-প্রোপেল্ড হাউইটজার, বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন এবং জ্যাভলিন অ্যান্টি-আর্মার মিসাইল কিনবে।
লক্ষ্য যখন চীনের সামরিক হুমকি
তাইওয়ান সরকারের প্রাথমিক পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্র থেকে আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র আমদানির পাশাপাশি দেশীয়ভাবে ড্রোন উৎপাদন ও সামরিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনে বড় বিনিয়োগের প্রস্তাব ছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল চীনের যেকোনো সম্ভাব্য আগ্রাসন বা সামরিক তৎপরতার বিরুদ্ধে দ্বীপরাষ্ট্রটির প্রতিরক্ষা দেয়ালকে আরও অভেদ্য করে তোলা।
বরাদ্দ নিয়ে পার্লামেন্টের কড়াকড়ি
সরকার সামরিক খাতের আধুনিকায়নে যে পরিমাণ অর্থের আবেদন করেছিল, পার্লামেন্টে আলোচনার পর তা কাটছাঁট করা হয়েছে। তবে অনুমোদিত ২৫ বিলিয়ন ডলার দিয়েও তাইওয়ান তাদের বর্তমান সামরিক শক্তিকে উল্লেখযোগ্যভাবে জোরদার করতে পারবে বলে মনে করছেন প্রতিরক্ষা বিশেষজ্ঞরা।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনের সামরিক মহড়া ও আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তাইওয়ান তাদের সামরিক ব্যয় ক্রমান্বয়ে বাড়িয়ে চলেছে। এই বাজেট অনুমোদন সেই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনারই একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।