
যশোরের শার্শা উপজেলার বসতপুর গ্রামে প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে বিয়ে, পরে পরিকল্পিতভাবে ইকরামুল কবির (২৬) নামে এক যুবককে হত্যার পর লাশ গুমের ঘটনা ঘটেছে। প্রায় এক মাস পর শনিবার (৯ মে) সন্ধ্যায় অভিযুক্তদের বাড়ির গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে তার অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনায় সন্দেহভাজন হিসেবে একটি দম্পতিকে আটক করা হয়েছে। নিহত ইকরামুল কবির শার্শা উপজেলার পুটখালী ইউনিয়নের দক্ষিণ বারোপোতা গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বসতপুর পূর্বপাড়া এলাকার আল ফুয়াদের স্ত্রী মুন্নী আক্তার (২২)-এর সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে ইকরামুল কবিরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ৮ এপ্রিল পাওনা টাকা আনতে মুন্নীর কাছে গেলে ইকরামুল নিখোঁজ হন।
পরবর্তীতে বিষয়টি নিয়ে গত মঙ্গলবার যশোরের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন নিহতের বাবা আব্দুর রশিদ। মামলায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও চার–পাঁচজনকে আসামি করা হয়।
এজাহারে বলা হয়, মুন্নী আক্তার দীর্ঘদিন ধরে ইকরামুলকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে বিয়েতে বাধ্য করেন। পরবর্তীতে তাকে অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় জোরপূর্বক কাজী অফিসে নিয়ে বিয়ে সম্পন্ন করা হয়। অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে ইকরামুলের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ১০ লাখ ৭০ হাজার টাকা আদায় করা হয় এবং তাকে ও তার পরিবারকে দুই বিঘা জমি লিখে দেওয়ার জন্য চাপ ও হুমকি দেওয়া হয়।
মামলার বর্ণনা অনুযায়ী, ৮ এপ্রিল রাতে বড় বোনের বাড়িতে থাকা অবস্থায় ইকরামুলকে রাত ১টার দিকে ডেকে নিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়। এরপর থেকে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নিখোঁজের পর বিভিন্ন সময়ে পরিবারের কাছে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয় এবং পরে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয় বলেও অভিযোগ করা হয়।
তদন্তের এক পর্যায়ে মুন্নীর স্বামী আল ফুয়াদকে আটক করে পুলিশ। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার সন্ধ্যায় বসতপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে গোয়ালঘরের মেঝে খুঁড়ে ইকরামুল কবিরের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মুন্নী আক্তারকেও আটক করা হয়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের ধারণা, টাকা-পয়সা ও সম্পর্কজনিত বিরোধের জেরে ইকরামুলকে শ্বাসরোধে বা অন্য কোনো উপায়ে হত্যা করা হয় এবং পরে লাশ গুম করা হয়।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। স্থানীয়রা এ নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।