
তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে দীর্ঘদিনের ক্ষমতার সমীকরণ ভেঙে বড় ধরনের উত্থান ঘটিয়েছে দক্ষিণ ভারতীয় তারকা থালাপতি বিজয়ের দল টিভিকে। রাজ্যজুড়ে দলটির জয়ের ঢেউয়ের মধ্যে আলোচনায় উঠে এসেছেন ৩০ বছর বয়সী সাবারিনাথন, যিনি বিজয়ের ব্যক্তিগত ড্রাইভারের ছেলে। প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়েই চেন্নাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ বিরুগামবাক্কম আসনে জয় তুলে নিয়েছেন তিনি।
ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় টিভিকে একশর বেশি আসনে এগিয়ে বা জয়ী অবস্থানে রয়েছে। এর মধ্যেই অন্যতম আলোচিত আসনে পরিণত হয়েছে বিরুগামবাক্কম। সেখানে ডিএমকের প্রভাকারা রাজা ও এআইএডিএমকের বিরুগাই রবিকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে বিজয় নিশ্চিত করেন সাবারিনাথন। তার জয়ের ব্যবধান ২২ হাজার ভোটেরও বেশি।
নির্বাচনের আগে দলীয় মনোনয়ন ঘোষণার সময় থেকেই সাবারিনাথনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে বিজয়ের রাজনৈতিক যাত্রার অংশ হওয়া এই তরুণ এখন রাজ্যের নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক মুখ হিসেবেও আলোচনায় রয়েছেন।
এদিকে রাজ্যের বিভিন্ন কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন ডিএমকের একাধিক শীর্ষ নেতা পরাজয়ের মুখ দেখেছেন। সবচেয়ে বড় ধাক্কা এসেছে মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্টালিনের আসনে। কোলাথুর কেন্দ্রে তিনি টিভিকের প্রার্থী ভিএস বাবুর কাছে হেরে গেছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে জানানো হয়েছে।
তবে ডিএমকের পুরো চিত্র একেবারে হতাশার নয়। মুখ্যমন্ত্রীর ছেলে উধয়নিধি স্টালিন চেপক-থিরুভাল্লিকেনি আসনে নিজের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছেন। সেখানে তিনি টিভিকের সেলভম ডিকে ৭ হাজার ১৪০ ভোটে হারিয়েছেন।
রাজ্যের রাজনীতিতে নতুন শক্তি হিসেবে উঠে আসা টিভিকের এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় মুখ এখন থালাপতি বিজয়। সম্ভাব্য পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবেও তার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সীমা দলটি এককভাবে অতিক্রম করতে পারবে কি না, তা নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।
ফলে সরকার গঠনে কংগ্রেস, এআইএডিএমকে কিংবা ছোট আঞ্চলিক দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রাজ্যে সরকার গঠনের সমীকরণ এখন কোন দিকে যায়, সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।