
পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক ধাক্কার মুখে পড়েছেন তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী ও বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাজ্যজুড়ে দলের ভরাডুবির পাশাপাশি নিজের আসন ভবানীপুরেও বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর কাছে পরাজিত হয়েছেন তিনি। রাজ্যের রাজনীতিতে এটিকে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ও আলোচিত ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সোমবার (৪ মে) ভোট গণনার শেষ দিকে এসে নাটকীয়ভাবে ব্যবধান বাড়িয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারান শুভেন্দু অধিকারী। বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৫ হাজার ১১৪ ভোটের ব্যবধানে জয় পান বিজেপির এই নেতা।
গণনার শুরুতে ভবানীপুর আসনে এগিয়ে ছিলেন মমতা। তবে সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ব্যবধান কমাতে থাকেন শুভেন্দু। শেষ দিকে তিনি বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেলে রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে গণনাকেন্দ্র এলাকায়।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রের আশপাশে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও শুভেন্দু অধিকারী দুজনই গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত হন। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী তাদের মোবাইল ফোন জমা নেওয়া হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সন্ধ্যার পর ফলাফলের চিত্র পরিষ্কার হতে শুরু করলে গণনাকেন্দ্র ত্যাগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে তার পরাজয়ের খবর প্রকাশিত হয়।
এর আগে ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও নন্দীগ্রাম আসনে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে হেরেছিলেন মমতা। পরে ভবানীপুর উপনির্বাচনে জয় পেয়ে বিধায়ক হন এবং টানা তৃতীয়বারের মতো মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব নেন। তবে এবারের নির্বাচনে নিজ আসনেই পরাজয় তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন আলোচনা তৈরি করেছে।
এদিকে রাজ্যজুড়ে বিজেপির বড় অগ্রগতির মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে ধস নামে। ফলাফলের ধারাবাহিকতায় পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতার পালাবদলের জোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা।