
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা বাড়িয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বক্তব্য। যুদ্ধের পর পরিস্থিতি প্রয়োজন হলে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিরাপদ রাখতে সেখানে যুক্তরাষ্ট্র সেনা মোতায়েন করতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।
রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তখন প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।
ইরানে মার্কিন স্থলবাহিনী পাঠানোর সম্ভাবনা কতটা রয়েছে জানতে চাইলে ট্রাম্প বলেন, ‘এর জন্য খুব ভালো কারণ থাকতে হবে। যদি আমরা কখনও এমন করি, তবে তারা এতটাই বিধ্বস্ত থাকবে যে স্থলযুদ্ধে লড়াই করার মতো অবস্থায় থাকবে না।’
পরে আরেক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম সুরক্ষার জন্য কি স্থলবাহিনী পাঠানো হতে পারে। জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ওটা পরে দেখা যাবে। এ বিষয়ে আমরা এখনও আলোচনা করিনি... তবে এটা বড় একটি বিষয় হতে পারে। এখন আমরা কেবল তাদের ভীষণভাবে দুর্বল করে দিচ্ছি, কিন্তু ওই দিকে এখনও যাইনি।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘এটা পরে করা যেতে পারে, কিন্তু এখনই নয়’।
এর আগে সংঘাত শুরুর সময় ইরানের একটি মেয়েদের স্কুলে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় অন্তত ১৬৮ শিশু ও ১৪ শিক্ষক নিহত হয়। এই হামলার জন্য সরাসরি ইরানকেই দায়ী করেছেন ট্রাম্প। এয়ার ফোর্স ওয়ানে তিনি বলেন, ‘আমি যা দেখেছি তার ভিত্তিতে বলছি, এটা ইরানই করেছে।’
মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথও একই সুরে কথা বলেছেন। তার ভাষায়, ‘বেসামরিক লোকজনকে লক্ষ্যবস্তু বানায় একমাত্র ইরান।’
তবে ট্রাম্প ও হেগসেথের এমন মন্তব্যের মধ্যেই মার্কিন সামরিক তদন্তকারীরা ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তাদের প্রাথমিক তদন্তে ইঙ্গিত মিলেছে, স্কুলটিতে হামলার জন্য সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীই দায়ী হতে পারে। বিষয়টি সত্য প্রমাণিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে গত তিন দশকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের মধ্যে এটি বেসামরিক হতাহতের সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হবে।