
ঢাকার সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বলেছেন, “সংসদকে শুধু প্রাণবন্ত করলেই হবে না, এটিকে কার্যকর করতে হবে।”
রবিবার (৮ মার্চ) সকালে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশের সব জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে পার্লামেন্ট, এমন প্রত্যাশা তুলে ধরে তিনি বলেন, সংসদকে কেন্দ্র করেই দেশের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ও বিতর্ক হওয়া উচিত।
নূরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের একটি প্রচলিত ধারণা আছে- সংসদকে শুধু প্রাণবন্ত করতে হবে। কিন্তু এই ধারণা পরিবর্তন করতে হবে। এখন থেকে সংসদকে শুধু প্রাণবন্ত নয়, কার্যকর করতে হবে। বাংলাদেশের সকল জাতীয় সমস্যার সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে পার্লামেন্ট। সকল কাজের কেন্দ্রবিন্দু হবে পার্লামেন্ট।”
তিনি বলেন, “সংসদকে কার্যকর করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাণবন্ততা তার সঙ্গে থাকবেই।”
এ লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে উল্লেখ করে চিফ হুইপ বলেন, “প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনায় কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখ থেকে সংসদ অধিবেশন শুরু হবে।”
এটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত ও কার্যকর সংসদ হবে বলে প্রত্যাশা করেন তিনি।
বিরোধী দলের ভূমিকা প্রসঙ্গে চিফ হুইপ বলেন, “সংসদে সবচেয়ে বেশি সুযোগ সাধারণত বিরোধী দলই গ্রহণ করে থাকে। সেই সুযোগ দেওয়ার জন্য সরকার প্রস্তুত রয়েছে।”
তিনি বলেন, “জাতীয় সব বিষয়ে সংসদে বিতর্ক হোক-এটাই প্রত্যাশা।”
প্রথম অধিবেশন নিয়ে প্রশ্নের জবাবে মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “এবারের অধিবেশন কিছুটা ব্যতিক্রমধর্মী হবে। কারণ, বর্তমান স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার পদত্যাগ করেছেন। ফলে নতুন করে তাদের নির্বাচন করতে হবে। প্রথম দিন সংসদ কক্ষে স্পিকারের চেয়ার খালি থাকবে। তখন সংসদ নেতা একজন সিনিয়র সদস্যকে অস্থায়ীভাবে সভাপতিত্ব করার জন্য প্রস্তাব করবেন। তার সভাপতিত্বে সংসদের কার্যক্রম শুরু হবে। এরপর স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে এবং তারপর সংসদের অন্যান্য কার্যক্রম যথারীতি চলবে।”
প্রথম অধিবেশনে আইন প্রণয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “সংসদ অধিবেশন না থাকাকালে অনেক সময় অর্ডিন্যান্স জারি করা হয়। সংবিধানের বিধান অনুযায়ী সংসদ বসলে সেগুলো সংসদে উপস্থাপন করতে হয়। বর্তমানে প্রায় ১৩৩টি অর্ডিন্যান্স রয়েছে, যেগুলো সংসদে টেবিলে উপস্থাপন করা হবে।”
নূরুল ইসলাম বলেন, “সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এসব অর্ডিন্যান্স সংসদে উপস্থাপনের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুমোদন দিতে হয়। ফলে এগুলো নিয়ে সংসদে অনেক কাজ থাকবে।”
শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে জনগণের উদ্দেশে বার্তা দিতে গিয়ে চিফ হুইপ বলেন, “বিএনপি গত ১৭ বছর ধরে একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। সেই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা এবং মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তি নিশ্চিত করা।”
তিনি বলেন, “দলের নেতা ও বর্তমান সংসদ নেতা এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নেতৃত্বেই এ আন্দোলন সংঘটিত হয়েছে। আল্লাহর রহমত এবং জনগণের সমর্থনে তারা দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সংসদে এসেছেন।”
চিফ হুইপ বলেন, “তাদের ৩১ দফা কর্মসূচি রয়েছে, যা ২০২৩ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে। সেই কর্মসূচি এবং সাম্প্রতিক সংস্কারগুলোর আলোকে দেশ পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে দেশের মানুষকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করা এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা।”
তিনি বলেন, “প্রথম বৈঠকেই প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়েছেন-১০ হাজার টাকা করমুক্ত রেখে ফ্যামিলি কার্ড চালু করা হবে। ১০ তারিখে কৃষি ফ্যামিলি কার্ড আনুষ্ঠানিকভাবে চালু করা হবে। এ ছাড়া কৃষি কার্ড, প্রবাসী কার্ডসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
কৃষক, খতিব ও ধর্মীয় ব্যক্তিদের তালিকা নেওয়ার কাজ শুরু হয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মাধ্যমে তাদের সরকারিভাবে ভাতা দেওয়া এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে সম্মানিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
মো. নূরুল ইসলাম বলেন, “সরকার সবাইকে নিয়ে চলতে চায়। সরকারি দল ও বিরোধী দল-সবাইকে একমঞ্চে এনে সংসদকে কার্যকর করার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি শুরু করেছেন, সেটি হচ্ছে সব পক্ষকে সমন্বয়ের মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়া।”
তিনি বলেন, “ইতিমধ্যে বিরোধী দল থেকে একজনকে ডেপুটি স্পিকার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। সংসদকে সত্যিকার অর্থে কার্যকর করা, গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করা এবং দেশের মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করাই তাদের লক্ষ্য।”
সেই লক্ষ্যে যা যা প্রয়োজন, তা করার চেষ্টা করা হবে বলে তিনি জানান।