
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। টানা এক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধ থামার কোনো ইঙ্গিত নেই। বরং প্রতিদিনই বাড়ছে পাল্টাপাল্টি হামলার তীব্রতা। এর মধ্যেই সৌদি আরব, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে নতুন করে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান।
নতুন দফার এই অভিযানে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়ে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে তেহরান।
দেশগুলোর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ইরানের কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করলেও ইরান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টার হামলায় ২২০ জন মার্কিন সেনা ও কমান্ডার নিহত বা আহত হয়েছেন। এ তথ্য জানিয়েছে প্রেস টিভি।
শনিবার (৭ মার্চ) রাতে এ বিষয়ে কথা বলেন ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) অধীন খতম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টারের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি।
তার দাবি অনুযায়ী, বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরকে লক্ষ্য করে চালানো হামলায় ২১ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা এয়ার বেসে থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি। ওই হামলায় প্রায় ২০০ জন মার্কিন সেনা নিহত বা আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন জোলফাঘারি।
সৌদি আরবের আল-খার্জ এলাকায় অবস্থিত প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। একই সঙ্গে পারস্য উপসাগরের উত্তরাংশে যুক্তরাষ্ট্রের মালিকানাধীন একটি তেলবাহী জাহাজেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান আইআরজিসির এই কর্মকর্তা।
তবে এসব দাবির সত্যতা এখনো যুক্তরাষ্ট্র কিংবা কোনো স্বাধীন সূত্র থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ঘোষণা ছাড়াই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। প্রথম আঘাতেই তারা ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করে। একই হামলায় দেশটির সেনাবাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কমান্ডারও নিহত হন।
এর জবাবে ইরান ইসরায়েলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে।
টানা আট দিনের এই পাল্টাপাল্টি আঘাতে পুরো মধ্যপ্রাচ্য কার্যত এক বড় যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। এরই মধ্যে ইরানের ওপর আরও বড় ধরনের হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শনিবার (৭ মার্চ) রাতেই ইরানের নতুন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে বলে ঘোষণা দেন তিনি।
মার্কিন প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার পর পাল্টা পদক্ষেপের প্রস্তুতিও নিচ্ছে তেহরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্টভাবে ইরানি জনগণের বিরুদ্ধে যুদ্ধের বিস্তৃতি এবং সরাসরি তাদের হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। এ কারণে ইরান এখন আমেরিকান অঞ্চল, বাহিনী এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে পর্যালোচনা করবে। যেগুলো এখনও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর লক্ষ্যবস্তু তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়নি, সেগুলো অন্তর্ভুক্ত করে হামলা চালানো হবে।”
এদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানও স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছে কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না ইরান।