
মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার আবহে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে। একই সময়ে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকায়ও একটি হামলার চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংককে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে কুয়েত। রোববার (৮ মার্চ) দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এই ঘটনার কথা নিশ্চিত করেছে।
কুয়েতি সামরিক বাহিনীর এক্সে দেওয়া এক পোস্টে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে সরাসরি ড্রোনের মাধ্যমে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।’
তিনি আরও জানান, দেশটির সামরিক বাহিনী ‘শত্রুতামূলক ড্রোনের ধেয়ে আসা ঢেউয়ের’ বিরুদ্ধে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।
অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, রিয়াদের কূটনৈতিক এলাকাকে লক্ষ্য করে আসা একটি ড্রোন প্রতিরক্ষা বাহিনী ভূপাতিত করেছে। এক্সে প্রকাশিত এক পোস্টে সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, এই ঘটনার ফলে কোনো ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে উপসাগরীয় দেশগুলোকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি ওং বলেছেন, ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে সুরক্ষা দিতে অস্ট্রেলিয়া সহযোগিতা করতে পারে।
রোববার এবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ইরানের হামলার শিকার হওয়া কয়েকটি দেশ ইতোমধ্যে ‘সহায়তা চেয়েছে’।
সাক্ষাৎকারে প্রতিবেদক জানতে চান, এই সহায়তা কি ইরানি হামলা থেকে সুরক্ষার ক্ষেত্রেই দেয়া হবে কিনা। জবাবে পেনি ওং বলেন, ‘ঠিক তাই’।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আগেই যে অবস্থান জানিয়েছি তার আলোকে বিষয়টি নিয়ে কাজ করব। আমরা ইরানের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক কোনও সামরিক অভিযানে অংশ নিচ্ছি না এবং ইরানে স্থলবাহিনী পাঠানোর কোনও পরিকল্পনাও নেই।’