
ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলে সাড়ে তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে একটি ফেরি ডুবে অন্তত ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বাসিলান প্রদেশের উপকূলে এই নৌদুর্ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে অনেক যাত্রী এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। আহত ও উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, কিন্তু যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়ায় হাসপাতাল ও উদ্ধারকর্মীদের ওপর চাপ বেড়ে গেছে।
টিআরটি ওয়ার্ল্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডুবে যাওয়া নৌযানটির নাম এমভি ‘ত্রিশা কেরস্টিন ৩’। এটি জাম্বোয়াঙ্গা শহর থেকে সুলু প্রদেশের জোলো দ্বীপের দিকে যাত্রা শুরু করেছিল। ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড জানায়, মধ্যরাতের পর ফেরি বিপৎসংকেত পাঠায়।
সরকারি হিসেবে ফেরিতে ৩৩২ জন যাত্রী এবং ২৭ জন নাবিক ছিলেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে জাম্বোয়াঙ্গা বন্দর ত্যাগের চার ঘণ্টা পর রাত ১টা ৫০ মিনিটে ফেরিটি বিপৎসংকেত পাঠায়। এরপর বাসিলানের বালুক-বালুক দ্বীপগ্রামের কাছাকাছি উপকূল থেকে এক নটিক্যাল মাইল দূরে ফেরি ডুবে যায়।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের সাউদার্ন মিন্দানাও জেলার কমান্ডার রোমেল দুয়া বার্তাসংস্থা এএফপিকে জানান, “এখন পর্যন্ত অন্তত ৩১৬ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের সংখ্যা ১৫ এবং এখনও অন্তত ২৮ জন নিখোঁজ।” তিনি বলেন, উদ্ধার অভিযানকে ত্বরান্বিত করতে একটি কোস্ট গার্ড বিমান পাঠানো হয়েছে। এছাড়া নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীও তাদের সরঞ্জাম ও সদস্য পাঠিয়েছে।
উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের মধ্যে অনেককে বাসিলানের রাজধানী ইসাবেলা শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জরুরি বিভাগের এক চিকিৎসক রোনালিন পেরেজ জানান, “একসঙ্গে অনেক রোগী চলে আসায় আমাদের বড় চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। এই মুহূর্তে জনবলও কম।”
বাসিলানের গভর্নর মুজিভ হাতামান ফেসবুকে ইসাবেলা বন্দরের কয়েকটি ভিডিও শেয়ার করেছেন। ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, জীবিত উদ্ধার হওয়া যাত্রীদের নৌকা থেকে নামানো হচ্ছে; কেউ থার্মাল কম্বলে মোড়ানো, কেউ স্ট্রেচারে বহন করা হচ্ছে। গভর্নর স্থানীয় রেডিওকে বলেন, উদ্ধার হওয়া অধিকাংশ যাত্রী শারীরিকভাবে ভালো আছেন, তবে কিছু বয়স্ক যাত্রীকে জরুরি চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, “যাত্রী তালিকা মিলিয়ে দেখা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে।”
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় আবহাওয়া ভালো ছিল। ফেরি ছাড়ার আগে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে জাহাজটি কেন ডুবে গেল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কর্তৃপক্ষ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
ফিলিপাইনে সাত হাজারের বেশি দ্বীপ থাকায় নৌদুর্ঘটনা সাধারণ ঘটনা। ঘন ঘন ঝড়, পুরনো ও রক্ষণাবেক্ষণহীন জাহাজ, অতিরিক্ত যাত্রী এবং নিরাপত্তা বিধির অভাবের কারণে প্রতিবছর বহু মানুষ নৌদুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
গত শুক্রবারও মিন্দানাও থেকে চীনের পথে যাওয়া একটি পণ্যবাহী জাহাজ ডুবে অন্তত দুই নাবিক নিহত হন এবং চারজন নিখোঁজ হন। এক সপ্তাহ আগে দাভাও উপকূলে একটি বেসরকারি নৌযান ডুবে ছয়জনের মৃত্যু হয়।
ফিলিপাইনের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ নৌদুর্ঘটনা ঘটেছিল ১৯৮৭ সালের ডিসেম্বরে। জ্বালানি ট্যাংকারের সঙ্গে সংঘর্ষে ‘ডোনা পাজ’ ফেরি ডুবে চার হাজার তিন শতাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিল, যা বিশ্বের অন্যতম বড় সামুদ্রিক দুর্ঘটনা হিসেবে পরিচিত।