
ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় মধ্যপ্রাচ্যে কয়েক দিনব্যাপী আকাশভিত্তিক সামরিক মহড়া আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের এই পদক্ষেপকে শক্তি প্রদর্শনের বার্তা হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকরা, বিশেষ করে যখন অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সামরিক উদ্যোগকে একটি শক্তিশালী ‘আর্মাডা’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এই বহরের নেতৃত্বে রয়েছে পারমাণবিক শক্তিচালিত বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন, যা ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে পৌঁছেছে।
মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের বিমান শাখা এয়ার ফোর্সেস সেন্ট্রাল জানায়, মহড়ার মূল লক্ষ্য হলো মধ্যপ্রাচ্যে দ্রুত যুদ্ধবিমান মোতায়েন, বিস্তার এবং আক্রমণ পরিচালনার সক্ষমতা তুলে ধরা। একই সঙ্গে আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা এবং যেকোনো সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুতি যাচাই করাও এই অনুশীলনের উদ্দেশ্য।
তবে এই সামরিক মহড়ার নির্দিষ্ট সময়, স্থান কিংবা এতে ব্যবহৃত সামরিক সরঞ্জামের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। বিশ্লেষকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ইরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র তার শক্তি প্রদর্শনের স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছে।
এর আগেই ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনের নেতৃত্বে একটি বড় মার্কিন নৌবহর মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। বিমানবাহী এই রণতরীতে রয়েছে কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান এবং প্রায় পাঁচ হাজার নাবিক। বহরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যুক্ত করা হয়েছে একাধিক গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার। একই সঙ্গে জর্ডানে মোতায়েন করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের এফ-১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমান।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সম্ভাব্য হামলার বিষয়টি নিয়ে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। মঙ্গলবার (২৭ নভেম্বর) অনুষ্ঠিত ওই ফোনালাপে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির তীব্র সমালোচনা করেন। যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানও ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো আগ্রাসনের বিরোধিতা করার অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করেন।
সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা এসপিএ জানায়, যুবরাজ স্পষ্টভাবে বলেছেন যে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক অভিযানে সৌদি আরব তার আকাশসীমা বা ভূখণ্ড ব্যবহার করতে দেবে না। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সৌদি আরব ইরানের সার্বভৌমত্বকে সম্মান করে এবং কোনো পক্ষকেই তার আকাশ, স্থল কিংবা জলসীমা ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহারের অনুমতি দেবে না।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান