
শিশু ও কিশোরদের মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে কঠোর পথে হাঁটছে ফ্রান্স। আগামী সেপ্টেম্বর নতুন শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগেই ১৫ বছরের নিচে শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করতে সরকার দ্রুত আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে চায় বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।
শনিবার (২৪ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় ম্যাক্রোঁ বলেন, “আমাদের শিশু ও কিশোরদের মস্তিষ্ক বিক্রির জন্য নয়। তাদের আবেগও বিক্রির বা নিয়ন্ত্রণের বস্তু হতে পারে না—তা সে আমেরিকান প্ল্যাটফর্ম হোক কিংবা চীনা অ্যালগরিদম।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা ১৫ বছরের নিচে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করছি এবং উচ্চ বিদ্যালয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আনছি। এটি একটি পরিষ্কার নিয়ম—কিশোরদের জন্য, পরিবারগুলোর জন্য এবং শিক্ষকদের জন্যও।”
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে শিশুদের রক্ষায় পশ্চিমা দেশগুলোতে এ ধরনের উদ্যোগ ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ডিসেম্বর অস্ট্রেলিয়া একটি যুগান্তকারী আইন পাস করে, যেখানে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের ইনস্টাগ্রাম, টিকটক ও ফেসবুকসহ বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অ্যাকাউন্ট খোলায় নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
ফ্রান্সে এই উদ্যোগ বাস্তবায়নের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ম্যাক্রোঁর রেনেসাঁ পার্টির আইনপ্রণেতা লর মিলার। তিনি বলেন, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যকর কোনো বয়স যাচাই ব্যবস্থা নেই। যে কেউ ইচ্ছামতো জন্মতারিখ ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে পারে। এ কারণে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল সার্ভিসেস অ্যাক্ট কঠোরভাবে প্রয়োগ করে প্রকৃত বয়স যাচাই নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য।
মিলার স্বীকার করেন, নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে যাওয়ার কিছু পথ সবসময়ই থাকবে। তবে তার মতে, শিশুদের অনলাইন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলেও একটি শক্ত অবস্থান নেওয়া জরুরি।
অস্ট্রেলিয়ায় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর ১৬ বছরের নিচে পরিচালিত প্রায় ৪৭ লাখ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট বন্ধ বা অপসারণ করা হয়েছে। দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি অ্যালবানিজ বলেন, শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়ছে বলেই সরকার এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাস্তব জীবনে শিশুদের জন্য নানা ধরনের সুরক্ষা থাকলেও অনলাইন জগতে তা এখনও যথেষ্ট নয়। ফলে স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বয়সভিত্তিক কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের প্রয়োজনীয়তা দিন দিন বাড়ছে।