
ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলন ক্রমেই তীব্র ও হত্যাকাণ্ডপূর্ণ রূপ নিয়েছে। প্রতিবাদকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে, এবং যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিপূর্ণ হস্তক্ষেপের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই ইরানি বিক্ষোভকারীদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
তিনি বলেছেন, ইরানের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে সেই দেশের জনগণ। আলজাজিরার প্রতিবেদনের বরাতে জানা যায়,
মালালা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) মঙ্গলবার লিখেছেন, ‘ইরানের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে দেশটির জনগণ, যেখানে ইরানি নারী ও মেয়েদের নেতৃত্ব থাকতে হবে; কোনো বিদেশি শক্তি বা দমনকারী শাসনব্যবস্থা নয়। ইরানের এই বিক্ষোভকে শিক্ষা ও জনজীবনের সব ক্ষেত্রে মেয়েদের ও নারীদের স্বাধীনতার ওপর দীর্ঘকাল ধরে চাপিয়ে দেওয়া রাষ্ট্রীয় বিধিনিষেধ থেকে আলাদা করে দেখা যাবে না। সব জায়গার মেয়েদের মতোই ইরানি মেয়েরাও মর্যাদার সঙ্গে জীবন যাপন করতে চান।’
দ্বি-সপ্তাহব্যাপী চলা এই নজিরবিহীন আন্দোলনে ইরান ব্যাপক উত্তাল। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সহিংসতার কারণে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) রয়টার্স একটি সরকারি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এই তথ্য জানিয়েছে। এটি হলো দেশজুড়ে চলা এই তীব্র গণআন্দোলনে প্রাণহানির সংখ্যা নিয়ে প্রথমবারের মতো তেহরানের পক্ষ থেকে প্রকাশিত তথ্য।
রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা বলেন, বিক্ষোভকারীদের ও নিরাপত্তা বাহিনীর মৃত্যুর পেছনে সন্ত্রাসীদের প্রভাব রয়েছে। তবে তিনি নির্দিষ্ট করে জানাননি, নিহতদের মধ্যে সাধারণ নাগরিক এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কতজন।
এ আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে ইরানের ক্ষীণ অর্থনৈতিক অবস্থা ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি উল্লেখ করা হচ্ছে। গত তিন বছরে এটি প্রশাসনের সবচেয়ে বড় অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষত গত বছর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হুমকির পর থেকে ইরান আন্তর্জাতিক চাপের মুখে রয়েছে।