
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের ভিপি সাদিক কায়েম বলেছেন, নিরাপত্তার অজুহাতে ছাত্র সংসদ নির্বাচনের স্থগিতাদেশ একটি অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত, যা ছাত্র সমাজ কখনো গ্রহণ করবে না। তিনি আরও জানান, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই সঠিক সময়ে ভোটের আয়োজনের আশ্বাস দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) ডাকসু নেতৃবৃন্দ নির্বাচন স্থগিতের অন্যায় এবং জবাবদিহি চেয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। সাক্ষাতের পরে সাংবাদিকদের সামনে সাদিক কায়েম এই মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, "আমাদের জুলাই বিপ্লবের পর বারবার বলা হয়েছে, বাংলাদেশের প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন হওয়া অত্যাবশ্যক। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই প্রতিটি ক্যাম্পাসে নেতৃত্ব দেবে।"
সাদিক কায়েম আরও উল্লেখ করেন, ইতিমধ্যেই দেশের পাঁচটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা গণতান্ত্রিক চর্চা ও দেশভিত্তিক নীতিনির্ধারণের সুযোগ পেয়েছে।
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এবং বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনের তারিখ স্থগিত হওয়ায় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং বলেন, "তিন সপ্তাহ আগে নিরাপত্তার অজুহাতে নির্বাচন বন্ধ করা যৌক্তিক নয়। শিক্ষার্থীরা যাকে ভোট দেবে, তারাই তাদের নেতা হবে।"
ডাকসু ভিপি উল্লেখ করেন, নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যেই আশ্বস্ত করেছে যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো প্রক্রিয়াকে সমর্থন করবে।
তিনি বলেন, "এই নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক ধারা বজায় থাকবে। শিক্ষার্থীরা স্বাধীনভাবে তাদের নেতা বেছে নেবে এবং নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের ভবিষ্যত নির্ধারিত হবে। আগামী গণভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রসংস্কার ও নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিনিময় সম্ভব হবে।"
সাদিক কায়েম জোর দিয়ে বলেন, "এই নির্বাচনে জয় বা পরাজয় নয়, বরং জুলাই প্রজন্মের গণতান্ত্রিক অর্জনই বিজয়। যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে, তারা সবাই জুলাই প্রজন্ম যারা একসঙ্গে আন্দোলন করেছে এবং ফ্যাসিবাদী শক্তির বিরুদ্ধে লড়াই করেছে।"
তিনি জানান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ দেশের সব শিক্ষার্থীর সঙ্গে, সকল রাজনৈতিক দল ও সিভিল সোসাইটির সহযোগিতায় মাসব্যাপী নির্বাচনী প্রচারণা চালাবে। এ কার্যক্রমের লক্ষ্য, দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সময়মতো এবং নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করা।
সবশেষে সাদিক কায়েম বলেন, "আমাদের শহিদদের আত্মত্যাগের মূল উদ্দেশ্য হলো বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গঠন। এজন্য নির্বাচনের মাধ্যমে আমরা এই প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী রাখব। শিক্ষার্থীদের নির্বাচিত প্রতিনিধিরাই দেশের প্রতিটি ক্যাম্পাসে নেতৃত্ব দেবে।"