
মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বেড়ে গেলে ভয়াবহ মানবিক ও রাজনৈতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে বলে সতর্ক করেছেন কাতারের সরকার। ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের সম্ভাব্য হামলার পর কাতার এই সতর্কবার্তা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, “আমরা জানি, যেকোনও ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি পেলে তা এই অঞ্চল ও এর বাইরেও বিপর্যয় ডেকে আনবে। তাই আমরা সম্ভবত এই বিপর্যয় এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছি।”
গত জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার জবাবে কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালায় ইরান। কাতার তখন তাত্ক্ষণিক মধ্যস্থতার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দ্রুত যুদ্ধবিরতি কার্যকর করে।
ইরানে ২৮ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া ব্যাপক বিক্ষোভ দেশটির ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীর জন্য ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে।
সোমবার হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বিক্ষোভ দমন অভিযান বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে সম্ভাব্য বিমান হামলার বিষয়টি বিবেচনা করছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো জানিয়েছে, অভিযানের কারণে নিহতের সংখ্যা ক্রমেই বেড়ে চলেছে। যদিও কয়েকদিন ধরে ইরানে ইন্টারনেট বন্ধ, তথ্যে ধীরে ধীরে তথ্য প্রকাশ পাচ্ছে।
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে ইরানের সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, ইরান পাল্টা জবাব দেবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও জাহাজ ইরানের “বৈধ লক্ষ্য” হবে।
নরওয়ে ভিত্তিক বেসরকারি সংস্থা ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) জানিয়েছে, এ পর্যন্ত বিক্ষোভে অন্তত ৬৪৮ জন নিহত, যার মধ্যে ৯ শিশুও রয়েছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে এবং কিছু হিসাব অনুযায়ী তা ৬ হাজারেরও বেশি হতে পারে।
ওয়াশিংটন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক পথ এখনও খোলা আছে, যদিও ইরান ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের সঙ্গে আলোচনায় ভিন্ন সুর দেখাচ্ছে।
মাজেদ আল-আনসারি বলেন, “আমরা বিশ্বাস করি কূটনৈতিক সমাধান সম্ভব। সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চলছে, বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী দেশ ও অঞ্চলের অংশীদারদের সঙ্গে। আমরা আশা করি, এটি থেকে শান্তিপূর্ণ সমাধান বেরোবে।”
সূত্র: এএফপি