
ইরানের নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী শিরিন এবাদি দাবি করেছেন, দেশটির কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রেখে গণহত্যা চালাচ্ছে এবং এ ঘটনার চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে এবাদি লিখেছেন, “ইরান একটি সংগঠিত নীরবতায় নিমগ্ন। ইন্টারনেট বন্ধ, যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল, সাক্ষীদের ভয় দেখানো এবং গণমাধ্যম বন্ধ করা সব মিলিয়ে সরকার নীরবে হত্যাকাণ্ড চালাচ্ছে এবং পরে তার চিহ্ন মুছে ফেলতে চায়।” তিনি এটিকে “সংগঠিত হত্যাকাণ্ড” হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা সরাসরি গুলি চালানো ও ইন্টারনেট শাটডাউনের আড়ালে ঘটছে।
এবাদি ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরেছেন। সংস্থাটি মাঠপর্যায়ের তথ্য, চিকিৎসা তথ্য, পরিবার ও সাক্ষীদের বয়ান এবং সরকারি ও নিরাপত্তা সূত্র যাচাই করে উপসংহারে পৌঁছেছে যে, ৮ ও ৯ জানুয়ারি দু’দিনে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। এবাদির মতে, এটি ইরানের সমকালীন ইতিহাসে সর্বাধিক হত্যাকাণ্ড।
তিনি শুধু মৃত্যুর সংখ্যাই নয়, হত্যার ধরনকেও উদ্বেগজনক হিসেবে দেখেছেন। এবাদি ইন্টারনেট সেবা পুনর্বহাল, স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তি দাবি করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের শেষের দিকে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে শুরু হওয়া বিক্ষোভ জানুয়ারি ২০২৬-এ তীব্র আকার নিয়েছে। ৮ জানুয়ারি থেকে দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করা হয়েছে, যা নেটব্লকসের তথ্য অনুযায়ী স্বাভাবিকের মাত্র ১ শতাংশে নেমে গেছে। ফলে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, নরওয়ে-ভিত্তিক ইরান হিউম্যান রাইটস ও অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, বিক্ষোভ শুরুর পর থেকে অন্তত ৫০–৬০ জন নিহত, যার মধ্যে শিশুদেরও অন্তর্ভুক্ত। কিছু সংস্থা মৃত্যুর সংখ্যা ২ হাজারের মতো দাবি করছে। তবে ইন্টারনেট বন্ধের কারণে ইরান ইন্টারন্যাশনালের ১২ হাজার মৃত্যুর দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ইরান সরকার এখনও এই অভিযোগের সরাসরি জবাব দেয়নি। তবে পূর্বে তারা বিক্ষোভকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ ও বিদেশি প্রভাবিত হিসেবে অভিহিত করেছে। এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের তদন্তের দাবি উঠেছে।