
ইরানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে ভয়াবহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন নোবেল শান্তি পুরস্কারপ্রাপ্ত মানবাধিকারকর্মী শিরিন এবাদি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ইন্টারনেট বন্ধ রেখে তেহরান কর্তৃপক্ষ ‘গণহত্যা’ চালাতে পারে এবং এ বিষয়ে পশ্চিমা সরকারগুলোর নীরবতা পরিস্থিতিকে আরও বিপজ্জনক করে তুলবে।
গত শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে শিরিন এবাদি বলেন, ‘আমাকে আজ রাতে জরুরি ভিত্তিতে কথা বলতে হচ্ছে। বিশ্বাসযোগ্য তথ্য রয়েছে যে ইরানে ব্যাপক যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে এই রাতকে গণহত্যায় পরিণত করার চেষ্টা করতে পারে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ইরানিরা শান্তিপূর্ণভাবে রাস্তায় নেমেছে, আর তাদের জবাব দেয়া হয়েছে গুলিবর্ষণের মাধ্যমে। ইরানে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা কোনো প্রযুক্তিগত ত্রুটি নয়; এটি একটি কৌশল।’
পশ্চিমা সরকার ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে এবাদি বলেন, ‘নীরবতা কার্যত অনুমতি দেয়ার শামিল হবে।’
একই সঙ্গে তিনি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর গুলি চালানো বন্ধ করা, হাসপাতালগুলো সুরক্ষিত রাখা এবং অবিলম্বে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও ইন্টারনেট পুনরুদ্ধারে প্রকাশ্য আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির দাবি জানান।
এদিকে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে লক্ষ্য করে কোনো ধরনের ‘পদক্ষেপ’ নিতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক সূত্র রোববার (১১ জানুয়ারি) লন্ডনভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরান ইন্টারন্যাশনাল-কে এ তথ্য জানিয়েছে।
সূত্রগুলোর দাবি, গত এক সপ্তাহে মধ্যপ্রাচ্যে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ও সম্পদ স্থানান্তর করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সামনের দিনগুলোতেও এই সামরিক উপস্থিতি আরও জোরদার হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তারা আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্র কোনো পদক্ষেপ নিলে তাতে ইসরাইল তখনই যুক্ত হবে, যদি ইরান সরাসরি ইসরাইলের ওপর হামলা চালায় বা হামলার সুস্পষ্ট প্রস্তুতির লক্ষণ দেখা যায়।
এদিকে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে ইরানে সবচেয়ে বড় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলমান থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় উচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইসরাইল।
সূত্র: রয়টার্স, ইরান ইন্টারন্যাশনাল