
ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানে চলমান সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র বিক্ষোভের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সার বিক্ষোভকারীদের ‘স্বাধীনতার সংগ্রাম’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন।
রোববার ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বিক্ষোভ কয়েক দিনের মধ্যে প্রাণঘাতী হয়ে উঠেছে। মূলত জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক অসুবিধার কারণে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুত ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে দেশ শাসন করা ধর্মতান্ত্রিক সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদে রূপ নিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক ভিডিওতে সার বলেন, “আমরা ইরানি জনগণের স্বাধীনতার সংগ্রামে সমর্থন জানাই এবং তাদের সাফল্য কামনা করি। আমরা মনে করি তারা স্বাধীনতার যোগ্য এবং তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো শত্রুতা নেই।”
ইসরায়েলি মন্ত্রী আরও বলেন, “আমাদের বড় সমস্যা হলো ইরানি শাসনব্যবস্থা, যা শুধুমাত্র আমাদের জন্য নয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক জন্যও সমস্যা। এটি সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার প্রধান রপ্তানিকারক।”
পৃথক এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের একজন সামরিক কর্মকর্তা জানান, সেনাবাহিনী ইরানের পরিস্থিতি মনিটর করছে। তিনি বলেন, “বিক্ষোভ ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তবুও আমাদের প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিরাপত্তা প্রস্তুতি জোরদার করছেন এবং প্রয়োজন হলে শক্ত হাতে জবাব দেওয়ার জন্য আমরা প্রস্তুত থাকব।”
এর আগে, রোববার ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হামলা চালালে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও নৌ ঘাঁটি এবং দখলকৃত ভূখণ্ডকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্র যদি সামরিক আক্রমণ করে, আমাদের লক্ষ্য হবে দখলকৃত অঞ্চল এবং তাদের সামরিক ও নৌ-পরিবহন কেন্দ্র।”
ইরান দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সহিংসতা উসকে দেওয়া এবং দেশটির জাতীয় ঐক্য দুর্বল করার অভিযোগ এনে আসছে।
সূত্র: এএফপি