
পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারত নতুন জ্বালানি তেলের উৎস খুঁজছে। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে ভেনেজুয়েলার তেল আমদানি করার পরিকল্পনা করছে দেশটির রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ।
রয়টার্সের দুটি সূত্র শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) নিশ্চিত করেছে, রিলায়েন্স এখন যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদন নিয়ে পুনরায় ভেনেজুয়েলার অপরিশোধিত তেল কিনার চেষ্টা করছে।
ভারত বর্তমানে রাশিয়া থেকে তেল কেনার বিষয়ে চাপের মুখে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ না হয়, তবে ৫০০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। এই কারণে অনুমোদন পেতে রিলায়েন্সের প্রতিনিধিরা যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনায় বসেছেন।
মার্কিন প্রশাসনের সঙ্গে চলমান আলোচনার মধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর গ্রেফতারের পর পাঁচ কোটি ব্যারেল তেল সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয়। হোয়াইট হাউস সূত্রের বরাতে ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আইএএনএস জানিয়েছে, তারা ভেনেজুয়েলার তেল কেনার জন্য নতুন ব্যবস্থার অনুমতি দিতে পারে, তবে কেনাবেচার শর্তাবলী চূড়ান্ত হয়নি।
ভারত একসময় ভেনেজুয়েলার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণে তেল আমদানি করত, তবে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে তা বন্ধ হয়। সম্প্রতি রিলায়েন্স এই তেল কেনার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, হোয়াইট হাউস অনুমতি দিলে তারা চুক্তি বিবেচনা করবে।
রিলায়েন্সের দুটি পরিশোধনাগারের সম্মিলিত সক্ষমতা দৈনিক প্রায় ১৪ লাখ ব্যারেল। ভেনেজুয়েলার মেরেইয়ের মতো তুলনামূলক সস্তা ও ভারী অপরিশোধিত তেল এখানে প্রক্রিয়াজাত করা সম্ভব।
বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল পরিশোধনাগার হিসেবে রিলায়েন্সের জন্য বিভিন্ন উৎস থেকে তেল সংগ্রহ অপরিহার্য। অতীতের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম চার মাসে ভেনেজুয়েলার রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি পিডিভিএস রিলায়েন্সকে চার দফায় দৈনিক গড়ে প্রায় ৬৩ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করেছিল। তবে মার্চ ও এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্র অধিকাংশ লাইসেন্স স্থগিত করে এবং মাদুরো সরকারের ওপর চাপ বাড়াতে শুল্ক আরোপের হুমকিও দেয়।
বর্তমানে রিলায়েন্সের জন্য ভেনেজুয়েলার তেল রাশিয়ার তেলের বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এর জন্য মার্কিন প্রশাসনের অনুমোদন অপরিহার্য।