
ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের হুমকি ও আক্রমণাত্মক বক্তব্যের মাত্রা বাড়লে তা সরাসরি জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করা হবে এমন কড়া বার্তা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “যেকোনো আক্রমণকারীর হাত আমরা কেটে দেব।”
বুধবার (৭ জানুয়ারি) ইরানের আর্মি কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সামনে দেওয়া এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক সামরিক হুঁশিয়ারির প্রেক্ষাপটেই হাতামির এই কঠোর অবস্থান উঠে আসে।
সেনাপ্রধান বলেন, “ইরানের বিরুদ্ধে শত্রুদের বক্তব্যের তীব্রতাকে তেহরান হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে। এই ধরনের বক্তব্য ও আচরণ অব্যাহত থাকলে ইরান চুপ করে থাকবে না।”
তিনি আরও সতর্ক করে জানান, ইরানের বিরুদ্ধে যে কোনো শত্রুতামূলক পদক্ষেপের সুদূরপ্রসারী পরিণতি হবে। দেশের স্বাধীনতা, ভৌগোলিক অখণ্ডতা এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্রের শাসনব্যবস্থা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনী সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগে প্রস্তুত রয়েছে বলে উল্লেখ করেন হাতামি। তার ভাষায়, “যুদ্ধ-পূর্ব সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী আরও বেশি প্রস্তুত। শত্রুপক্ষ যদি ভুল হিসাব করে, তবে তারা আরও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়বে।”
গত বছরের জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সংঘর্ষের প্রসঙ্গ টেনে সেনাপ্রধান বলেন, ওই সময় ১২ দিনের লড়াইয়ে অন্তত ১ হাজার ৬৪ জন নিহত হন এবং সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়ে। তিনি জানান, ২৪ জুন ইরানের সফল পাল্টা অভিযানের মাধ্যমে সেই আগ্রাসন থামানো সম্ভব হয়।
দেশজুড়ে সাম্প্রতিক বিক্ষোভ নিয়েও বক্তব্য দেন হাতামি। তিনি দাবি করেন, এসব আন্দোলনের সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বা ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।
অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রতিবাদ যেকোনো দেশেই স্বাভাবিক। তবে তা দ্রুত সহিংস দাঙ্গায় রূপ নেওয়া ইরানের সংস্কৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।” একই সঙ্গে তিনি এ ধরনের অস্থিরতাকে শত্রুদের পরিকল্পনার অংশ হিসেবেও উল্লেখ করেন।