
যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য নতুন নিয়ম চালু করেছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘ভিসা বন্ড’ নীতি অনুসারে এবার থেকে বাংলাদেশিরা কেবল তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ বা দেশত্যাগ করতে পারবেন। এই বিমানবন্দরগুলো হলো- বোস্টন লোগান, জন এফ কেনেডি এবং ওয়াশিংটন ডুলস আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর।
তিনটি বিমানবন্দর ছাড়া অন্য কোনো পথে যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা করলে ভিসা বন্ডের শর্ত লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হতে পারে। এর ফলে বন্ডের অর্থ ফেরত পাওয়ার ক্ষেত্রে জটিলতা দেখা দিতে পারে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর ৬ জানুয়ারি ভিসা বন্ড প্রযোজ্য দেশের হালনাগাদ তালিকা প্রকাশ করে। এতে দেশের সংখ্যা প্রায় তিনগুণ বেড়ে ৩৮টি দেশে উন্নীত হয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। এর আগে এক সপ্তাহের মধ্যে সাতটি দেশ নতুন করে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল। পররাষ্ট্র দপ্তরের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নতুন নিয়ম ২১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।
তালিকাভুক্ত অধিকাংশ দেশ আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার। বাংলাদেশের পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে আলজেরিয়া, অ্যাঙ্গোলা, ভুটান, কিউবা, জিবুতি, ফিজি, নাইজেরিয়া, নেপাল, উগান্ডা সহ আরও অনেক দেশ। দেশভেদে নীতি কার্যকর হওয়ার তারিখ ভিন্ন হতে পারে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তালিকাভুক্ত দেশের নাগরিকরা যদি ব্যবসা বা পর্যটন ভিসার জন্য যোগ্য হন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় ৫ হাজার, ১০ হাজার অথবা সর্বোচ্চ ১৫ হাজার ডলার পর্যন্ত ভিসা বন্ড জমা দিতে হবে। বাংলাদেশি মুদ্রায় সর্বোচ্চ বন্ডের পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১৮ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
ভিসা সাক্ষাৎকারে কনস্যুলার কর্মকর্তা আবেদনকারীর ব্যক্তিগত পরিস্থিতি ও সাক্ষাৎকার মূল্যায়নের ভিত্তিতে বন্ডের পরিমাণ নির্ধারণ করবেন। আবেদনকারীদের অবশ্যই মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম ব্যবহার করে বন্ড প্রদানে সম্মতি জানাতে হবে। কনস্যুলার কর্মকর্তার নির্দেশ ছাড়া আগাম কোনো অর্থ জমা দেওয়া যাবে না।
উল্লেখ্য, ভিসা বন্ড নীতি গত আগস্টে পরীক্ষামূলক কর্মসূচি হিসেবে প্রথম চালু হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি, যেসব দেশের নাগরিকদের মধ্যে ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও অবৈধ অবস্থানের হার বেশি, মূলত তাদেরই এই নীতির আওতায় আনা হয়েছে।
প্রতিবছর যুক্তরাষ্ট্র নন-ইমিগ্র্যান্ট ভিসা দিয়ে থাকে, যার মধ্যে শিক্ষার্থী, পর্যটক ও কর্মসংক্রান্ত ভিসা রয়েছে। অনুমোদিত সময়ের বেশি অবস্থান করলে তা ভিসা ওভারস্টে হিসেবে গণ্য হয়। নতুন নিয়মের ফলে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া আরও ব্যয়বহুল ও জটিল হয়ে উঠবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।