
ঝড়-বৃষ্টি আর প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় যারা অংশ নিতে পারেননি, সেসব শিক্ষার্থীদের পুনরায় পরীক্ষা দেওয়ার বিশেষ সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ভুল থাকা দুটি প্রশ্নের জন্য পরীক্ষার্থীরা পুরো নম্বর পাবেন।
বুধবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে দেওয়া এক বিবৃতিতে এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
পরীক্ষা দেওয়ার বিশেষ সুযোগ ও চট্টগ্রাম বোর্ডের সিদ্ধান্ত
শিক্ষামন্ত্রী তাঁর বিবৃতিতে জানান, বৈরী পরিবেশ বা অনিবার্য কারণে যেসব শিক্ষার্থী চলমান এইচএসসি ও সমমানের কোনো পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেননি, চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের স্থগিত হওয়া বিষয়ের পরীক্ষার জন্য তৈরি অভিন্ন প্রশ্নপত্রে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে।
বিশেষ এই সিদ্ধান্তের গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন:
"যেহেতু এইচএসসি পরীক্ষা শিক্ষার্থীদের জীবনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ধাপ, তাই বিশেষ বিবেচনায় এই বিশেষ সুযোগ প্রদান করা হলো।"
তিনি আরও জানান, এবারের পরীক্ষায় দেশজুড়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। অতিবৃষ্টি ও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সম্প্রতি চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে থাকা পাঁচটি জেলা—চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, খাগড়াছড়ি, রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। তবে চট্টগ্রাম বিভাগের বাইরেও ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় বিচ্ছিন্নভাবে বেশ কিছু পরীক্ষার্থী বৈরী আবহাওয়াসহ নানা প্রতিকূলতার কারণে নির্ধারিত পরীক্ষা দিতে পারেননি। ক্ষতিগ্রস্ত সেই শিক্ষার্থীরাও এই বিশেষ সুবিধার আওতায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
পদার্থবিজ্ঞানে ভুল প্রশ্ন ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা
অন্যদিকে, পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের পরীক্ষায় ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নের বিষয়ে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি জানান, ত্রুটিপূর্ণ প্রশ্ন তৈরির সাথে জড়িত ব্যক্তিদের ইতিমধ্যেই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
পাশাপাশি পরীক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন:
"পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রে ভুল প্রশ্নপত্র প্রণয়নে দায়ী ব্যক্তিদের ইতিমধ্যে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে যে ভুল হয়েছে, তার জন্য পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।"