
বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে ১০০ কোটি টাকার বেশি অনাদায়ী ঋণ থাকা গ্রাহকদের জন্য বিশেষ সুবিধা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোকে স্পেশাল রিকভারি টিম (এসআরটি) গঠনের নির্দেশনা দিয়ে (৮ জুলাই ২০২৪) একটি সার্কুলার জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলেছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে উৎপাদনশীল খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়াতে খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায় করা জরুরি। এজন্য ব্যাংকগুলোকে ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে। বিশেষ এসআরটির মাধ্যমে ঋণ পুনরুদ্ধার, পুনঃতফসিল, পুনর্গঠন এবং আইনি কার্যক্রম সমন্বয় করে খেলাপি ঋণ কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সার্কুলার অনুযায়ী, ৩০ জুন ২০২৪ ভিত্তিক সন্দেহজনক ও ক্ষতিমানে শ্রেণিকৃত খেলাপি ঋণ পর্যালোচনা করে ব্যাংক-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে বিশেষ এসআরটি গঠন করা যাবে।
যেসব গ্রাহক এ সুবিধা পাবেন
বিশেষ এসআরটির আওতায় অন্তর্ভুক্ত হতে হলে—
১. খেলাপি ঋণের স্থিতি পৃথকভাবে কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা হতে হবে।
২. ঋণটি বাংলাদেশ ব্যাংকের বিদ্যমান নীতিমালা অনুযায়ী পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠনের যোগ্য হতে হবে এবং ঋণগ্রহীতাকে নির্ধারিত শর্ত মেনে চলতে হবে।
৩. ১ আগস্ট ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে পুনঃতফসিল বা পুনর্গঠন সম্পন্ন করতে হবে।
৪. কৃষি, প্রবাসী কল্যাণ, মাইক্রো ও ক্ষুদ্র ঋণসহ নির্দিষ্ট কিছু খাতের ঋণ এ সুবিধার আওতায় থাকবে না।
বাংলাদেশ ব্যাংক আরও জানিয়েছে, এসআরটি কার্যক্রম কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এ নির্দেশনা ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে পূর্বের কয়েকটি নির্দেশনার আংশিক সংশোধনও করা হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, খেলাপি ঋণ আদায়ে গতি আনতে বড় অঙ্কের ঋণগ্রহীতাদের পুনঃতফসিল ও পুনর্গঠনের সুযোগ দেওয়া হলেও, এর সফলতা নির্ভর করবে ঋণগ্রহীতাদের শর্ত প্রতিপালন এবং ব্যাংকগুলোর কার্যকর তদারকির ওপর।