
প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স যেন দ্রুত গ্রাহকের হিসাবে পৌঁছায়—সে লক্ষ্যে ব্যাংকগুলোর জন্য নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে একই কর্মদিবস অথবা পরবর্তী কর্মদিবসের মধ্যেই রেমিট্যান্স গ্রাহকের হিসাবে জমা নিশ্চিত করতে হবে। আন্তঃসীমান্ত অর্থ পরিশোধ ব্যবস্থায় বিলম্ব কমানো এবং প্রক্রিয়ার দক্ষতা বাড়াতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৮ জানুয়ারি) এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।
কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, নির্দেশনাটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হলেও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য ব্যাংকগুলোকে আগামী মার্চ পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, অনুমোদিত ডিলার (এডি) ব্যাংকগুলো রেমিট্যান্সের বার্তা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নিরাপদ ইলেকট্রনিক মাধ্যমে গ্রাহককে অবহিত করবে। ব্যাংকিং সময়ের মধ্যে প্রাপ্ত রেমিট্যান্স একই কর্মদিবসে এবং ব্যাংকিং সময় শেষ হওয়ার পর প্রাপ্ত রেমিট্যান্স পরবর্তী কর্মদিবসে গ্রাহকের হিসাবে জমা দিতে হবে।
রেমিট্যান্স নিষ্পত্তি আরও দ্রুত করতে ব্যাংকগুলোকে স্ট্রেইট-থ্রু প্রসেসিং (এসটিপি) অথবা ঝুঁকিভিত্তিক দ্রুততর প্রক্রিয়া অনুসরণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া গেলে কিছু নথি বা যাচাই প্রক্রিয়া অসম্পূর্ণ থাকলেও গ্রাহকের হিসাবে অর্থ জমা দেওয়া যাবে এবং পরে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা যাবে। তবে যেসব ক্ষেত্রে পোস্ট-ক্রেডিট রিভিউ সম্ভব নয়, সেসব লেনদেনে আগে যাচাই শেষ করে সর্বোচ্চ তিন কর্মদিবসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।
প্রক্রিয়ার গতি বাড়াতে দিনের শেষে নস্ট্রো হিসাবের বিবরণীর ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইন্ট্রাডে ক্রেডিট কনফারমেশন ব্যবহারের নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। পাশাপাশি রিকনসিলিয়েশন ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে বলা হয়েছে, যা ৬০ মিনিটের মধ্যে সম্পন্ন করতে হবে।
সার্কুলারে পেমেন্ট ট্র্যাকিং ও স্বচ্ছতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এ উদ্দেশ্যে ইনওয়ার্ড রেমিট্যান্স গ্রহণ থেকে গ্রাহকের হিসাবে চূড়ান্তভাবে জমা হওয়া পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় ইউনিক এন্ড-টু-এন্ড ট্রানজ্যাকশন রেফারেন্স (ইউইটিআর) ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ডিজিটাল বৈদেশিক মুদ্রা প্ল্যাটফর্ম জোরদার করে ফরম সি ও ফরম সি (আইসিটি) সংক্রান্ত প্রয়োজনীয়তা তুলে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ব্যবসায়ী মহল এ সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। তাদের মতে, এতে গ্রাহকদের আস্থা বাড়বে এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রক্রিয়াকরণ ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে। তবে রূপান্তরকালীন সময়ে কিছু কার্যক্রমগত চ্যালেঞ্জের কথাও ব্যাংকাররা উল্লেখ করেছেন।
শিল্পসংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, ইন্ট্রাডে কনফারমেশন এবং ইউইটিআরভিত্তিক ট্র্যাকিং ব্যবস্থা রেমিট্যান্স নিষ্পত্তিতে স্বচ্ছতা বাড়াবে এবং বিরোধের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
ঢাকায় কর্মরত একটি আন্তর্জাতিক ব্যাংকের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “এর ফলে করেসপন্ডেন্ট ব্যাংকগুলোর মধ্যে আস্থা বাড়বে এবং বৈশ্বিক পেমেন্ট নেটওয়ার্কে বাংলাদেশের সুনাম আরও শক্তিশালী হবে।”