
লাতিন আমেরিকার বিশাল বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের উপস্থিতি জোরালো করতে উরুগুয়েকে সম্ভাব্য প্রধান প্রবেশদ্বার হিসেবে দেখছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। দক্ষিণ আমেরিকার প্রভাবশালী বাণিজ্য জোট মারকোসুরে প্রবেশের ক্ষেত্রে উরুগুয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংগঠনটির নেতারা।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) বাংলাদেশে নিযুক্ত উরুগুয়ের রাষ্ট্রদূত আলবার্তো গুয়ানি বিজিএমইএ কার্যালয় পরিদর্শন করেন। এ সময় দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনায় এই সম্ভাবনার কথা উঠে আসে।
বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানের নেতৃত্বে বৈঠকে অংশ নেন সংগঠনটির পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম এবং পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ। বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে উরুগুয়ের অনারারি কনসাল মোস্তফা কামরুস সোবহান।
আলোচনায় বাংলাদেশ ও উরুগুয়ের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা, পাশাপাশি এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় যৌথ উদ্যোগের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।
সভায় সূচনাপর্বে ইনামুল হক খান বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের সক্ষমতা ও অগ্রগতির চিত্র তুলে ধরেন এবং উরুগুয়েতে পোশাক রপ্তানি বাড়াতে সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশ বিশ্বে পোশাক রপ্তানিতে দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও লাতিন আমেরিকার বাজারে সেভাবে প্রবেশ করতে পারেনি এবং বাংলাদেশে সুযোগ কাজে লাগাতে চায়।”
বিজিএমইএ পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী লাতিন আমেরিকার প্রেক্ষাপটে উরুগুয়ের কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, “বিশেষ করে উরুগুয়ে মারকোসুর অঞ্চল বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রধান গেটওয়ে বা প্রবেশদ্বার হিসেবে কাজ করতে পারে।”
এদিকে রাষ্ট্রদূত আলবার্তো গুয়ানি বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তিনি উরুগুয়ের বিশ্বমানের ট্রেসেবিলিটি সম্পন্ন উল বাংলাদেশে রপ্তানির প্রস্তাব দেন।
বাংলাদেশে উরুগুয়ের অনারারি কনসাল মোস্তফা কামরুস সোবহান বলেন, “উরুগুয়ের মেরিনো উলের রয়েছে আন্তর্জাতিক মানের ট্রেসেবিলিটি সনদ, এবং বাংলাদেশের পোশাক প্রস্তুতকারীরা ব্যবহার করে বিশ্ববাজারে আরও প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠতে পারে।”
বিজিএমইএ পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজের মতে, উরুগুয়ে থেকে উল আমদানির মাধ্যমে বাংলাদেশের পোশাক পণ্যে বৈচিত্র্য আনা সম্ভব, যা লাতিন আমেরিকার বাজারে দেশের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক হবে।
সভায় উরুগুয়েতে একটি শক্তিশালী বাণিজ্য প্রতিনিধিদল পাঠানোর প্রস্তাব দেন বিজিএমইএ পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী। এর প্রেক্ষিতে রাষ্ট্রদূত আলবার্তো গুয়ানি জানান, উরুগুয়ের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একটি প্রতিনিধি দল পাঠানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং এতে বিজিএমইএ অংশ হতে পারে বলে তিনি মত দেন। এ সময় বিজিএমইএ নেতারা ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করার বিষয়টির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।
বৈঠকের শেষে উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠভাবে একসঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করে।