
নতুন বছরের শুরুতেই প্রবাসী আয়ের জোরালো প্রবাহে ব্যাংকিং খাতে ডলারের সরবরাহ বেড়েছে। টানা রেমিট্যান্স বৃদ্ধির ফলে ডলারের দাম কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়ায় বাজারে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো থেকে ডলার কিনতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) মাল্টিপল প্রাইস অকশন (এমপিএ) পদ্ধতিতে ১৫টি ব্যাংক থেকে মোট ২০৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার কেনে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এ ক্রয়ে ডলারের এক্সচেঞ্জ রেট ও কাট-অফ রেট উভয়ই নির্ধারণ করা হয় ১২২ টাকা ৩০ পয়সা।
সব মিলিয়ে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত বিভিন্ন বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে ৩৭৫ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।
বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি জানুয়ারির ১ থেকে ৭ তারিখের মধ্যে দেশে এসেছে প্রায় ৯০ কোটি মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স। আর চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত মোট প্রবাসী আয় দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৭১৭ কোটি ডলারে, যেখানে গত বছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৪৩২ কোটি ডলার। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে রেমিট্যান্স বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ।
বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ, প্রণোদনা সুবিধা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের দক্ষতা বাড়ানোর ফলে বৈধ পথে রেমিট্যান্স প্রবাহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও।
এদিকে, ২০২৫ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরেই রেমিট্যান্স প্রবাহ সবচেয়ে শক্ত অবস্থানে ছিল। ওই মাসে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ৩২৩ কোটি ডলার, যা একক মাস হিসেবে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ৫৬ লাখ ডলারের রেমিট্যান্স এসে দেশের ইতিহাসে রেকর্ড গড়ে।