
গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে সরকারি গোপনীয়তা আইনে দায়ের করা মামলায় ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামের সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. নূর আলম রবিউলকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
১০ দিনের রিমান্ড আবেদন, ৭ দিন মঞ্জুর
রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, রবিউলের বিরুদ্ধে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট, ১৯২৩-এর বিভিন্ন ধারায় করা মামলায় প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের মতো তথ্য পাওয়া গেছে। তার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং বাংলাদেশে কোনো বড় ধরনের ষড়যন্ত্র বা দেশবিরোধী কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে তিনি কাজ করছিলেন কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন রয়েছে বলে আবেদনে বলা হয়।
পুলিশের দাবি, আগের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য যাচাই এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ে বিস্তারিত জানতে রবিউলকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ কারণেই ১০ দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়েছিল।
এর আগে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার সন্দেহে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে দুই দফায় মোট আট দিন তাকে রিমান্ডে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। সেই জিজ্ঞাসাবাদের পর গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে নতুন মামলা করা হয়। মামলায় ডিবির পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়েছেন।
নথিতে পাসপোর্ট ও পরিচয়পত্রে অসঙ্গতির দাবি
মামলার এজাহার অনুযায়ী, রবিউল ইসলাম ভারতের পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনা জেলার মাটিয়া থানার গৌড়িভোজ গ্রামের বাসিন্দা। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে উত্তরা পশ্চিম থানার ১১ নম্বর সেক্টরের একটি বাসায় তার অবস্থানের তথ্য পেয়ে পুলিশ তাকে আটক করে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার কাছ থেকে ভারতীয় পাসপোর্ট ও ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া যায়। এসব নথি পর্যালোচনায় জন্মতারিখে অসঙ্গতি দেখা গেছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ভারতীয় নাগরিক হওয়া সত্ত্বেও পাসপোর্টে জন্মস্থান হিসেবে সৌদি আরবের রিয়াদ লেখা রয়েছে বলেও অভিযোগে বলা হয়েছে।
মামলার নথিতে আরও বলা হয়েছে, রবিউল প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে একাধিকবার বাংলাদেশে আসা-যাওয়া করেছেন। কখনো পর্যটন ভিসা, আবার কখনো ব্যবসায়িক ভিসা ব্যবহার করে তিনি বাংলাদেশে প্রবেশ করতেন বলে পুলিশের দাবি।
ভোমরা দিয়ে প্রবেশের পর উত্তরা অবস্থানের অভিযোগ
এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন রবিউল। এরপর ১৫ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি ঢাকায় অবস্থান করেন।
পুলিশের অভিযোগ, বাংলাদেশে আসার আড়ালে রবিউল গুপ্তচরবৃত্তিমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের চেষ্টা করতেন। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থি কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা, নিষিদ্ধ এলাকার ছবি এবং সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলেও মামলার এজাহারে দাবি করা হয়েছে।
তবে এসব অভিযোগ এখনো মামলার তদন্তাধীন বিষয়; আদালতের আদেশে অভিযোগগুলোর চূড়ান্ত সত্যতা নির্ধারিত হয়নি।