
পাবনার ঈশ্বরদীতে নিজের বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক ছাত্রীকে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীদের অভিভাবকেরা।
অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক আয়েশা খাতুনকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পর বুধবার সকালে বিদ্যালয়ে গেলে শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসাকে প্রবেশ করতে বাধা দেন তাঁর সহকর্মীরা। পরে কোনো ক্লাস না নিয়েই বিদ্যালয় ছেড়ে বাড়িতে ফিরে যান তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী উপজেলার মানিকনগর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক মোশারফ হোসেন মুসার সঙ্গে একই বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির এক ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একপর্যায়ে ওই ছাত্রী তাঁকে বিয়ের জন্য চাপ দিতে শিক্ষকের বাড়িতে যান। শুরুতে বিয়েতে রাজি না হলেও পরে চাপের মুখে গত শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) দিবাগত মধ্যরাতে গোপনে ওই ছাত্রীকে বিয়ে করেন মুসা।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিয়ের অভিযোগ ওঠার পরও শিক্ষক মুসা নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছিলেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় সমালোচনা ছড়িয়ে পড়লে ওই ছাত্রীকে গোপনে শিক্ষকের বাড়ি থেকে সরিয়ে তাঁর বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মোশারফ হোসেন মুসার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। তবে দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক এবং ওই ছাত্রীর টানা দুই দিন তাঁর বাড়িতে অবস্থান ও রাত কাটানোর বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সাংবাদিকের ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আনিসুর রহমান বলেন, তিনি মানুষের মুখে ঘটনাটি শুনেছেন। তবে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি তসলিম আরিফ তুষার জানান, তিনিও তিন দিন আগে ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। তাঁর ভাষায়, এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনায় বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়েছে এবং অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান বলেন, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখন পর্যন্ত তাঁকে এ বিষয়ে কিছু জানায়নি। তবে বাল্যবিবাহ রাষ্ট্রীয় অপরাধ বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীকে বিয়ে করার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষকের নৈতিক স্খলন হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিদ্যালয় পরিচালনা পর্ষদকে নির্দেশ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষার্থীর অভিভাবক বলেন, শিক্ষার্থীরা শিক্ষকদের কাছে সন্তানের মতো। একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এমন আচরণের অভিযোগ তাঁদের বিস্মিত করেছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।