
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে নাচ-গানের আয়োজনের কথা বলে এক তরুণীকে ডেকে এনে জিম্মি করার পর এক সপ্তাহ ধরে পালাক্রমে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে পাঁচ ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় মোখলেছুর রহমান মিঠু (৩৫) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। একই ঘটনায় ওই তরুণীকেও উদ্ধার করা হয়েছে।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাতে ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের নলেয়া রশিদ মোড় এলাকা থেকে ওই তরুণীকে জিম্মি অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে মোখলেছুর রহমান মিঠুকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এক সপ্তাহ আটকে রাখার অভিযোগ
পুলিশ ও স্থানীয়দের কাছ থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের সামাদের ঘাট এলাকায় একটি চায়ের দোকানের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে নাচ-গানসহ বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে।
গত ২৫ সেপ্টেম্বর নাচ-গানের কথা বলে সেখানে তিন তরুণীকে নিয়ে আসা হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তী সময়ে তাদের মধ্যে দুজন চলে গেলেও ওই তরুণীকে আটকে রাখা হয়। অভিযোগ রয়েছে, তাঁর কাছে থাকা ৫ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে নেওয়ার পর তাঁকে জিম্মি করা হয়।
এরপর প্রায় এক সপ্তাহ ওই তরুণীকে আটকে রেখে মোখলেছুর রহমান মিঠু, নাইনুল ইসলাম, লিটন মিয়া, আল আমিন ও ফুল মিয়া ওরফে ফুলবর পালাক্রমে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
৯৯৯-এ খবর পেয়ে উদ্ধার, গ্রেপ্তার একজন
বাড়িতে ফেরার মতো টাকা না থাকায় বৃহস্পতিবার অভিযুক্তদের কাছে অর্থ চাইতে নলেয়া রশিদ মোড় এলাকায় যান ওই তরুণী। সেখানে টাকা দেওয়া নিয়ে তাঁর সঙ্গে অভিযুক্তদের বাগবিতণ্ডা শুরু হলে স্থানীয়দের বিষয়টি সন্দেহ হয়।
পরে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বর ও থানায় খবর দেন। খবর পেয়ে ভূরুঙ্গামারী থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তরুণীকে উদ্ধার করে এবং মোখলেছুর রহমান মিঠুকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তার মিঠু নলেয়া রশিদ মোড় এলাকার বাসিন্দা। মামলার অপর অভিযুক্তরা হলেন নাইনুল ইসলাম, লিটন মিয়া, আল আমিন ও ফুল মিয়া ওরফে ফুলবর। তাঁরা ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।
ওসি আজিম উদ্দিন জানান, ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়ি মুন্সীগঞ্জ জেলায়। তিনি ঘটনার বিষয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে এবং আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে।