
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়া এবং সুপেয় পানির সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। খাগড়াছড়ির গুইমারা রিজিয়নের আওতাধিন ১৮ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি মাটিরাঙ্গা জোন এর ব্যবস্থাপনায় মাটিরাঙ্গার সীমান্তবর্তী পানছড়ির অত্যন্ত দুর্গম প্রফুল্ল কার্বারীপাড়া বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি পুন:নির্মান করা হয়েছে। একই সাথে স্থানীয়দের সুপেয় পানির কষ্ট দূর করতে স্থাপন করা হয়েছে সৌরচালিত পানির পাম্প ও সরবরাহ লাইন।
শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুরের দিকে পানছড়ির উপজেলার উল্টাছড়ির অত্যন্ত দুর্গম প্রফুল্ল কার্বারীপাড়ায় এসব বিতরণ ও পানির পাম্প স্থাপন করা হয়।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে জানা যায়, জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে প্রফুল্লপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের শিক্ষা কার্যক্রম চরম ব্যাহত হচ্ছিল। শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও আনন্দদায়ক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে জরাজীর্ণ ভবনটি সম্পূর্ণ সংস্কার করে নতুন রূপ দিয়েছে মাটিরাঙ্গা জোন।
শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিতকরণের পাশাপাশি ওই পাহাড়ের সুপেয় পানির দীর্ঘদিনের হাহাকার দূর করতে বসানো হয়েছে সৌরচালিত পানির পাম্প। এই পাম্প থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সুপেয় পানি পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে প্রফুল্লপাড়ার দুটি এলাকার প্রায় অর্ধ শতাধিক পরিবারের দোরগোড়ায়। নিরাপদ পানির রিজার্ভ নিশ্চিত করতে সেখানে সুদৃশ্য পানির ট্যাংকও স্থাপন করা হয়েছে।
সেনাবাহিনীর এই মানবিক উদ্যোগকে স্থানীয়রা অত্যন্ত স্বস্তির সাথে দেখছেন। এ প্রসঙ্গে মাটিরাঙ্গা জোনের উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল(পিএসসি) বলেন, "বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের পাশে সবসময় রয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পানি সরবরাহ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার মতো জনকল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে পাহাড়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সেনাবাহিনী নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। এ ধরনের উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"
সেনাবাহিনীর এই পদক্ষেপে উচ্ছ্বসিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজীব চাকমা বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ জরাজীর্ণ স্কুল ঘরে বাচ্চাদের নিয়ে সবসময় উদ্বেগে থাকতাম। সেনাবাহিনীর এমন মহৎ কাজের পর শিক্ষার্থীরা এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ ও মনোরম পরিবেশে পড়াশোনা করতে পারছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান ৫ নং উল্টাছড়ি ইউপি মো. আবুল হাশেম (ভারপ্রাপ্ত) জানান, দুর্গম এলাকার দীর্ঘদিনের পানির কষ্ট মুহূর্তেই দূর হয়ে গেল। অর্ধ শতাধিক পরিবার এখন সহজেই সুপেয় পানি পাচ্ছে। সেনাবাহিনীর এই জনকল্যাণমূলক কাজের প্রশংসা করে উপজেলার মরাটিলা হতে প্রফুল্লপাড়া পর্যন্ত প্রায় ৪ কি:মি: করে দেয়ার দাবি জানান তিনি।
স্কুলে অধ্যয়নরত ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী শ্রীমতি ত্রিপুরা বলেন, "আগে আমাদের স্কুলটা অনেক পুরোনো আর ভাঙা ছিল। এখন স্কুলটা অনেক সুন্দর হয়েছে, আমাদের ক্লাস করতেও ভীষণ আনন্দ লাগছে। পাশপাশি সুপেয় পানির ব্যাবস্থা করায় সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।"
মাটিরাঙ্গা জোন উপ-অধিনায়ক মেজর আলতাফ মাহমুদ রুবেল জানান, প্রত্যন্ত অঞ্চলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, বিশুদ্ধ পানি ও অবকাঠামো উন্নয়নসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করে সেনাবাহিনী। স্থানীয় জনগণের প্রয়োজনকে গুরুত্ব দিয়ে এসব উদ্যোগ পার্বত্য এলাকার মানুষের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলেও জানান তিনি।
এসময় সুবিধাভোগী শিক্ষক-শিক্ষার্থী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।