-6abf99a6bdcfa.webp)
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) ১২ কেজির সিলিন্ডার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অনেক বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ক্রেতাদের অভিযোগ, প্রতি সিলিন্ডারে অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
শুক্রবার (৩ অক্টোবর) সকালে রায়পুরের প্রধান সড়কসহ হায়দরগঞ্জ, মোল্লারহাট, খাসেরহাট, বাসাবাড়ী, রাখালিয়া, মীরগঞ্জ, নতুনবাজার, গাজিনগর ও মিতালি বাজার এলাকায় সরেজমিন ঘুরে নির্ধারিত দামের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ দামে এলপিজি বিক্রির চিত্র পাওয়া যায়।
কয়েক দিনের ব্যবধানে বেড়েছে কয়েকশ টাকা
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, হঠাৎ এলপিজির দাম বেড়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষ। বাড়তি দামের প্রভাব পড়েছে ছোট খাবারের দোকান, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ এলপিজির ওপর নির্ভরশীল বিভিন্ন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ও। গ্যাসের পেছনে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হওয়ায় এসব প্রতিষ্ঠানের পরিচালন খরচও বেড়েছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার নিয়ন্ত্রণ করছে। সংকটের সুযোগ নিয়ে তাদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় অনেক বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে। বাধ্য হয়েই বাড়তি দামে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে বলে জানান তারা।
তাদের তথ্য অনুযায়ী, গত মাসেও রায়পুরের অধিকাংশ দোকানে ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডার ১ হাজার ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। কিন্তু গত কয়েক দিনে দাম বেড়ে ২ হাজার থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় উঠেছে। ফলে প্রতিটি সিলিন্ডারের জন্য ক্রেতাদের অতিরিক্ত ৭০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত গুনতে হচ্ছে।
গুদামে মজুত, খুচরা বাজারে ‘সংকট’
পৌর শহরের নিউমার্কেটের দুই ব্যবসায়ীর দাবি, বিভিন্ন গোডাউনে পর্যাপ্ত পরিমাণে এলপিজি সিলিন্ডার মজুত রয়েছে। অথচ খুচরা বাজারে সংকটের কথা বলা হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সরবরাহ থাকার পরও কৃত্রিম সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বেশি দামে সিলিন্ডার বিক্রি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে রায়পুর নতুন বাজার, মিতালি বাজার ও বাসটার্মিনাল এলাকার কয়েকজন খুচরা বিক্রেতা বাড়তি দামে বিক্রির জন্য নিজেদের দায়ী করতে চাননি। তাদের দাবি, তারাও বেশি দামে সিলিন্ডার কিনছেন। ফলে সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করলে তাদের পক্ষে ব্যবসা চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
নিয়মিত বাজার তদারকির আশ্বাস
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মেহেদী হাসান কাউসার বলেন, এলপিজির বাড়তি দামে বিক্রির বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হবে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত দামে এলপিজি বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।