
হবিগঞ্জে এনসিপি ও বিএনপির মুখোমুখি অবস্থানকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয়েছে চরম উত্তেজনা। মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জ অভিমুখে যাত্রা করা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতাদের বহর পথে পথে আটকে দিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। প্রায় চার ঘণ্টা ধরে অবরুদ্ধ থাকার পর বাধ্য হয়ে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসে হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে লিখিত এজাহার জমা দিয়েছেন এনসিপির নেতারা। অভিযোগ দায়েরের পর তারা পুনরায় মৌলভীবাজারের পথে ফিরে যান।
ঘটনার বিস্তারিত জানা যায়, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে মৌলভীবাজার সার্কিট হাউস থেকে এনসিপি নেতাদের একটি গাড়িবহর হবিগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। কিন্তু শ্রীমঙ্গলের চা-কন্যা ভাস্কর্য সংলগ্ন এলাকায় পুলিশ প্রথম দফায় তাদের পথরোধ করে। সেখানে প্রায় ৩০ মিনিট দাঁড়িয়ে থাকার পর বিকেল ৫টা ৫ মিনিটের দিকে বহরটি পুনরায় পথ চলা শুরু করে।
তবে কিছুটা পথ এগোতেই মুছাই এলাকায় পৌঁছালে দ্বিতীয় দফায় পুলিশের কড়া বাধার মুখে পড়েন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম এবং জাতীয় সংসদ সদস্য মাহমুদা আক্তার মিতুসহ কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতারা।
দীর্ঘ সময় আটকে থাকার পর রাত ৮টার দিকে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে বসেই মামলার আবেদন প্রস্তুত করেন নেতারা। হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর রুয়েল বাদী হয়ে এই লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এজাহারে ১১ জন পরিচিত নেতার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পুলিশি বাধার বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে এনসিপির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম অভিযোগ করে বলেন, বিকেল সাড়ে ৪টা থেকেই তাদের যাতায়াতের পথ রুদ্ধ করে রাখে পুলিশ। পরবর্তীতে সন্ধ্যা ৭টার দিকে অভিযোগ দিতে তারা হবিগঞ্জ সদর থানায় যেতে চাইলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাতে বাধা প্রদান করে। ফলে বাধ্য হয়ে রাত ৮টার দিকে ফাঁড়িতে বসেই তাদের অভিযোগ জমা দিতে হয়েছে। তার দাবি, এনসিপির শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বাধা সৃষ্টির মাধ্যমে পুলিশ পরোক্ষভাবে বিএনপি ও তাদের অঙ্গসংগঠনকে সহায়তা জুগিয়েছে।
অন্যদিকে এনসিপি নেতাদের আটকে রাখার খবর ছড়িয়ে পড়লে কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়ির বাইরে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের কর্মীরা। একই সময়ে হবিগঞ্জ শহরের জেলা বিএনপি কার্যালয়ে এক প্রতিবাদ সভা আয়োজন করে জেলা যুবদল।
উদ্ভূত পরিস্থিতির বিষয়ে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ জানান, একই দিনে এনসিপি ও বিএনপির পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক সমাবেশকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে হবিগঞ্জ পৌর এলাকা জুড়ে ১৪৪ ধারা জারি করেছিল প্রশাসন। এনসিপির নেতারা নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শহরে ঢুকে সভা করতে চাইলে চরম আইনশৃঙ্খলা সংকটের আশঙ্কা তৈরি হতো। মূলত তাদের নিজস্ব সুরক্ষা এবং সার্বিক পরিবেশ শান্ত রাখতে কামাইছড়া পয়েন্টে অবস্থান নেয় পুলিশ।
উল্লেখ্য, পূর্ববর্তী দিন মঙ্গলবার নির্ধারিত কর্মসূচি শেষ করে ফেরার পথে হবিগঞ্জের স্টাফ কোয়ার্টার এলাকায় বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায় বলে এনসিপির পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়। ওই ঘটনায় এনসিপির কয়েকজন সদস্য আহত হন। এই ঘটনার জের ধরেই জেলা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকাল থেকে পুরো হবিগঞ্জ পৌরসভায় ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।