.jpeg)
পাবনার সাঁথিয়ার একটি মসজিদে পাবনা-১ (সাঁথিয়া) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায়কে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত-সমর্থকদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে এতে কেউ গুরুতর আহত হননি। তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ।
শুক্রবার (২৪ জুলাই, ২০২৬) জুমার জামাত শুরুর ঠিক আগে সাঁথিয়া পৌর এলাকার আফতাবনগর বাজার জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ, দলীয় নেতাকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন গত শুক্রবার এ মসজিদে জুমার নামাজ পড়াতে চেয়েছিলেন। তবে সেদিন বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের আপত্তির মুখে তা সম্ভব হয়নি। পরে শুক্রবার তিনি আবার নামাজ পড়াতে এলে খুতবা শুরুর সময় মসজিদে উপস্থিত বিএনপির কর্মী-সমর্থকরা বাধা দেন।
এ সময় মসজিদের ভেতরেই জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে আগে থেকেই উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনলে মসজিদের নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতে জুমার নামাজ আদায় করা হয়।
এ বিষয়ে সাঁথিয়া পৌর বিএনপির সভাপতি আব্দুল করিম বলেন, দলীয় প্রভাব বিস্তারের জন্য জামায়াতের এমপি গত শুক্রবারও নামাজ পড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু স্থানীয়দের আপত্তির মুখে তা সম্ভব হয়নি। আজও তিনি লোকজন নিয়ে এসে প্রথমে ইমামের হাত থেকে মাইক্রোফোন নিয়ে প্রায় ১০ মিনিট বক্তব্য দেন। পরে খুতবা পাঠ ও নামাজ পড়ানোর ঘোষণা দিলে স্থানীয়রা আপত্তি করেন। তখন জামায়াত-শিবির ও এনসিপির কর্মীরা ধাক্কাধাক্কি ও কিল-ঘুষি শুরু করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ হস্তক্ষেপ করলে নির্ধারিত ইমামের ইমামতিতেই নামাজ আদায় হয়।
অন্যদিকে, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন বলেন, ‘আমি ক্ষমতা প্রদর্শন করতে বা ইচ্ছাকৃতভাবে সেখানে নামাজ পড়াতে যাইনি। স্থানীয়দের অনুরোধেই গিয়েছি। গত জুমাতেও তারা আমাকে আহ্বান জানিয়েছিল। কিন্তু বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝামেলা করতে পারে—এমন আশঙ্কায় যাওয়া হয়নি। পরে আজ কোনো সমস্যা হবে না বলে স্থানীয়রা আশ্বস্ত করলে সেখানে যাই। কিন্তু খুতবার সময় বিএনপির নেতাকর্মীরা ঝামেলা শুরু করে। এটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক ঘটনা।’
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত। গোপীনাথপুরের বিএনপি নেতা করিম, সেক্রেটারি সিরাজসহ এলাকার বাইরের বহু নেতাকর্মী এনে এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে। তারা জামায়াতের স্থানীয় নেতাকর্মীদের মারধর করেছেন। নামাজের পর তাদের এক কর্মীর দোকানে হামলা, লুটপাট ও মারধরের ঘটনাও ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।
সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, এমপির নামাজ পড়ানোকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার আশঙ্কা থাকায় আগে থেকেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। এরপরও নামাজের আগে মসজিদের ভেতরে কথা-কাটাকাটি ও হালকা ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। মারধর বা আহত হওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।