
ইরান-ইসরায়েলের চলমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কায় সাতক্ষীরাজুড়ে পেট্রোল পাম্পগুলোতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন পাম্পে মোটরসাইকেলসহ নানা ধরনের যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) রাত সাড়ে ৮টা থেকে শহরের সংগ্রাম পাম্পসহ বিভিন্ন জ্বালানি পাম্পে এবং শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিনভর জেলার একাধিক পাম্পে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্বাভাবিক দিনের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি ভিড়। পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করতে শত শত মোটরসাইকেলচালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে অপেক্ষা করতে হয়েছে। জেলার পাটকেলঘাটার মজুমদার তেল পাম্পে তেল না পেয়ে অনেক বাইকারকে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফিরে যেতে দেখা যায়।
পাম্পটির ব্যবস্থাপক জানান, সকাল থেকে হঠাৎ মোটরসাইকেলের অতিরিক্ত চাপের কারণে সাময়িকভাবে তাদের পেট্রোল শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক চালককে ফিরিয়ে দিতে হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তেলের দাম বাড়তে পারে বা সরবরাহ সংকট দেখা দিতে পারে—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় অনেকেই প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কিনতে শুরু করেছেন। তবে তিনি দাবি করেন, তেলের কোনো সংকট নেই বলে চালকদের বোঝানোর চেষ্টা করা হলেও অনেকে তা বিশ্বাস করতে চাইছেন না।
লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা বাইকার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘শুনলাম তেলের দাম বাড়বে এবং সংকট দেখা দেবে। পরে যদি তেল না পাওয়া যায় বা দাম বেড়ে যায়, তাই আগেভাগেই নিতে এসেছি। কিন্তু এসে দেখি দীর্ঘ লাইন। আধা ঘণ্টার বেশি সময় ধরে দাঁড়িয়ে আছি।’
আরেক মোটরসাইকেলচালক দীপ্ত দাশ বলেন, ‘পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে তেলের কোনো ঘাটতি নেই। তারপরও সাধারণ মানুষ পুরোপুরি আশ্বস্ত হতে পারছে না। তাই আতঙ্ক থেকেই সবাই তেল নিতে ভিড় করছে।’
তবে পাম্প কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, জেলায় জ্বালানি তেলের কোনো বাস্তব সংকট বা সরবরাহ ঘাটতি নেই। মূলত গুজব ও আতঙ্কের কারণে একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক মানুষ পাম্পে ভিড় করায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুলনা তেল ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জ্বালানি তেলের মজুত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। জনমনে বিভ্রান্তি দূর করতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে সচেতনতামূলক প্রচার চালানো হচ্ছে।
প্রশাসন সাধারণ মানুষকে গুজবে কান না দিয়ে অপ্রয়োজনীয়ভাবে অতিরিক্ত জ্বালানি না কেনার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে স্থানীয় সচেতন মহল পাম্পগুলোতে নজরদারি জোরদারের দাবি জানিয়েছে, যাতে কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি বিক্রি করতে না পারে।