
সুন্দরবনে মাছ ধরায় তিন মাসের নিষেধাজ্ঞার সময় জীবিকা সংকটে পড়া জেলেদের সহায়তায় এবার প্রথমবারের মতো ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। তবে পশ্চিম সুন্দরবনের তালিকাভুক্ত প্রায় সব জেলে এই সুবিধার আওতায় এলেও পূর্ব সুন্দরবনের অধিকাংশ জেলে বরাদ্দ থেকে বাদ পড়ায় ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
বর্তমানে সুন্দরবনে মাছ ধরার ওপর তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। এ সময় বিকল্প আয়ের সুযোগ না থাকায় সরকারি খাদ্য সহায়তার ওপর নির্ভর করছেন অনেক জেলে। কিন্তু পূর্ব সুন্দরবনের বিপুলসংখ্যক তালিকাভুক্ত জেলে চাল না পাওয়ায় হতাশার কথা জানিয়েছেন তারা। অন্যদিকে এ পরিস্থিতির জন্য মৎস্য বিভাগের অসহযোগিতাকে দায়ী করেছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরবনে মাছের প্রজনন ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে প্রতি বছর জুন, জুলাই ও আগস্ট—এই তিন মাস মাছ ধরা নিষিদ্ধ থাকে। এ লক্ষ্যে সুন্দরবন বিভাগ ২০২০ সালের ২৮ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ফলে প্রতিবছর এই সময়ে মাছ ধরতে না পেরে জেলেদের অনেকেই পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েন।
নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলার ১২টি উপজেলার সুন্দরবননির্ভর তালিকাভুক্ত ৮ হাজার ২৭১টি জেলে পরিবারের জন্য ১৬ জুলাই ৬৬১ দশমিক ৬৮ মেট্রিক টন ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেয় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। প্রতিটি পরিবার জুলাই ও আগস্ট—এই দুই মাসে মাসে ৪০ কেজি করে, মোট ৮০ কেজি চাল পাবে।
তবে স্থানীয় জেলেদের অভিযোগ, পশ্চিম সুন্দরবনের তালিকাভুক্ত জেলেদের সংখ্যার চেয়েও বেশি জেলের নামে চাল বরাদ্দ দেওয়া হলেও পূর্ব সুন্দরবনের সব তালিকাভুক্ত জেলে এই সহায়তা পাননি।
বাগেরহাট জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি মো. দুলাল ফরাজী বলেন, প্রথমবারের মতো সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলেদের জন্য চাল বরাদ্দ হওয়ায় তারা আনন্দিত। তবে পূর্ব সুন্দরবনের সব জেলের জন্য বরাদ্দ না আসায় সেখানে হতাশা তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) এজেডএম হাসানুর রহমান জানান, পশ্চিম বন বিভাগে তালিকাভুক্ত জেলের সংখ্যা ৬ হাজার ৩১৭ জন। এর মধ্যে খুলনা রেঞ্জে ৪ হাজার ৬৮ জন এবং সাতক্ষীরা রেঞ্জে ২ হাজার ২৪৯ জন রয়েছেন। অথচ এ অঞ্চলের ৬ হাজার ৭৮২ জন জেলের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে বাগেরহাট জেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) রাজ কুমার বিশ্বাস বলেন, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের তালিকাভুক্ত জেলেদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে যে তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছিল, সেই তালিকার ভিত্তিতেই চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
এদিকে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী জানান, পূর্ব বন বিভাগের শরণখোলা ও চাঁদপাই রেঞ্জে ৮ হাজার ৫৪০ জন তালিকাভুক্ত জেলে থাকলেও তাদের মধ্যে মাত্র ১ হাজার ৪৮৯ জনের জন্য ভিজিএফ চাল বরাদ্দ এসেছে। তার দাবি, মৎস্য বিভাগের অসহযোগিতার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।