
ভোলার মনপুরায় এক সাধারণ কৃষককে চৌকিদার দিয়ে তুলে নিয়ে দলীয় কার্যালয়ে আটকে রেখে বেধড়ক মারধর ও জোরপূর্বক মাথা ন্যাড়া করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই বর্বরোচিত ঘটনায় স্থানীয় ৫ জন বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলাউদ্দিন আজ বুধবার সকালে নিজেই বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
চৌকিদার দিয়ে তুলে নিয়ে নির্যাতন
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার (১১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে একজন গ্রামপুলিশ বা চৌকিদারকে ব্যবহার করে কৃষক আলাউদ্দিনকে বাংলাবাজারের বিএনপি কার্যালয়ে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। এরপর কার্যালয়ের ভেতরের শাটার বন্ধ করে দিয়ে তাঁর ওপর নির্মম শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে বাংলাবাজারের একটি সেলুন থেকে প্রিয়লাল নাপিতকে ডেকে এনে জোরপূর্বক ওই কৃষকের মাথা ন্যাড়া করে দেওয়া হয়। একই সাথে এই ঘটনা কাউকে জানালে কঠোর পরিণতি ভোগ করতে হবে বলে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয়।
অভিযুক্ত পাঁচ আসামি হলেন—মো. দুলাল ওরফে দুলাল মেম্বার, ফরিদ, কালাম, মোশারফ ও কাদির। তাঁদের সবার বাড়ি মনপুরা উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নে এবং তাঁরা সবাই স্থানীয় বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত।
ভয়ে চিকিৎসাও নিতে পারেননি ভুক্তভোগী
অভিযুক্তদের ভয়ে চরম আতঙ্কে থাকা আলাউদ্দিন শুরুতে হাসপাতালে যাওয়ারও সাহস পাননি। তিন দিন ধরে যন্ত্রণায় কাতরে অবশেষে স্থানীয় বাসিন্দাদের অভয় ও সহযোগিতায় গত মঙ্গলবার তিনি মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে চিকিৎসা নেন। এরপর আজ বুধবার থানায় গিয়ে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।
এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন মনপুরা উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মিলন মাতাব্বর। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন:
"যে দলের হোক অপরাধ করলে শাস্তি তাকে পেতেই হবে।"
অন্যদিকে, অভিযুক্ত ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা জাকির হোসেন দুলাল মেম্বার তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে দাবি করেন:
"আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। নারী সংক্রান্ত বিষয়ে এলাকাবাসীর অভিযোগের বিষয়ে কৃষককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মারধর করা হয়নি।"
পুরো বিষয়টি নিয়ে আইনগত ব্যবস্থার বিষয়ে মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম জানান:
"মারধরের ঘটনায় ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আসামিদের ধরতে অভিযান চলছে।"