
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় গভীর রাতে সিঁদ কেটে একটি বসতবাড়িতে ঢুকে এক বৃদ্ধাকে হত্যার পর স্বর্ণালংকার ও নগদ অর্থ লুট করে পালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার ভোরে উপজেলার পাথৈর ইউনিয়নের বেরকোটা গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।
নিহত ফাতেমা বেগমের (৭৫) স্বামী মৃত সাদেক মিয়াজী পাট ও বস্ত্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক কর্মকর্তা ছিলেন।
পুলিশ ও স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ভোরের আগে সংঘবদ্ধ একটি দল বাড়ির পশ্চিম পাশ দিয়ে সিঁদ কেটে ঘরে প্রবেশ করে। চুরির সময় ফাতেমা বেগম বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে দুর্বৃত্তরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার গলা, থুতনি ও নাকে আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে ঘরে থাকা প্রায় দেড় ভরি স্বর্ণালংকার এবং নগদ টাকা লুট করে পালিয়ে যায় তারা।
স্বজনরা জানান, প্রতিদিনের মতো ফজরের নামাজের আগে বড় ছেলের স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে ডাকতে গেলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে পরিবারের অন্য সদস্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করলে রক্তাক্ত অবস্থায় তার মরদেহ দেখতে পান তারা।
নিহতের জামাতা মিজানুর রহমান বলেন, “আমাদের পরিবারের সবচেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষটিকে এভাবে হারাতে হবে কখনো ভাবিনি। এই হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।”
খবর পেয়ে কচুয়া থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল শেষে ময়নাতদন্তের জন্য সেটি চাঁদপুর সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হাই, কচুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজিজুল ইসলাম, পরিদর্শক (তদন্ত) রাশেদুল হকসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কচুয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল হাই বলেন, “মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”