
নাটোরের বড়াইগ্রামে সপ্তম শ্রেণিতে পড়া এক মাদ্রাসাছাত্রীকে দীর্ঘদিন ধরে বাবা-ছেলে মিলে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর কিশোরী পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হয়। পরে গ্রাম্য সালিশের মাধ্যমে ঘটনা ধামাচাপার চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত মামলা হওয়ার পর অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (২৬ মে) বড়াইগ্রাম উপজেলার মালিপাড়া এলাকার গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা সামসুল ইসলাম ও তার ছেলে আরিফুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, অভিযুক্তদের বাড়ির পাশেই ভুক্তভোগী কিশোরীর পরিবার বসবাস করে। সামসুল ইসলাম ও তার ছেলে এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন। গত বছরের নভেম্বর থেকে বিভিন্ন সময়ে ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ পরিবারের। কাউকে বিষয়টি জানালে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
একপর্যায়ে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে। এরপর বুধবার রাতে স্থানীয়ভাবে একটি সালিশ বৈঠক বসে। সেখানে অভিযুক্ত আরিফুল ইসলামের সঙ্গে কিশোরীর বিয়ে পড়ানো হয় বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে ১০ লাখ টাকা কাবিন নির্ধারণ, কিশোরীর নামে চার শতাংশ জমি লিখে দেওয়া এবং অভিযুক্ত সামসুল ইসলামকে এলাকা ছাড়ার শর্তও দেওয়া হয়।
তবে পরে ভুক্তভোগী কিশোরীর ভাই বাদী হয়ে থানায় মামলা করলে পরিস্থিতি বদলে যায়। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে বাবা ও ছেলেকে গ্রেপ্তার করে।
বড়াইগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুস ছালাম বলেন, ঘটনায় ধর্ষণ মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার পর অভিযুক্ত দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ঘটনাটি প্রকাশের পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে ধর্ষণের মতো গুরুতর অভিযোগ গ্রাম্য সালিশে মীমাংসার চেষ্টা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে।