
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরপর হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট এবং জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে দিনের বেলায় কয়েকশ লোক নিয়ে একটি জমি দখলের চেষ্টা, মিরপুর-১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে মধ্যরাতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাট এবং ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলার অভিযোগ রয়েছে।
তিনটি ঘটনাতেই বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ, বিভিন্ন মালামাল লুট এবং স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব ঘটনায় কারা সরাসরি জড়িত এবং হামলার পেছনে কারা ছিল, তা এখনো তদন্তাধীন। এর মধ্যে মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মোহাম্মদপুরে শত শত লোক নিয়ে জমি দখলের চেষ্টা
রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেড়িবাঁধ এলাকার চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ে দিনের বেলায় কয়েকশ কিশোর গ্যাং সদস্য নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করে জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারাও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ঘটনার নেতৃত্বে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতারা ছিলেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।
এ ঘটনায় মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন নামে এক ব্যক্তি মোহাম্মদপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, চাঁদ উদ্যান হাউজিংয়ের ৮ নম্বর রোডে ভবনসহ ১১ কাঠা জমিটি তার মায়ের মালিকানাধীন। কিছুদিন ধরে মো. মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী নামে এক ব্যক্তি স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জমিটি দখলের চেষ্টা করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ১০টার দিকে ২০০ থেকে ৩০০ জনের একটি দল জমিটির সামনে গিয়ে ভাঙচুর শুরু করে। স্থানীয়রা বাধা দিলে তাদের মারধর করা হয়। এরপর প্লটের ভেতরে থাকা অফিসকক্ষের তালা ভেঙে এসি, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, চেয়ার-টেবিল, দরজা-জানালাসহ বিভিন্ন আসবাব নিয়ে যাওয়া হয়। পরে টিন ও বাঁশ দিয়ে প্লটটির চারপাশ ঘিরে দেওয়া হয়।
বিএনপি-যুবদলের নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ
মোস্তাকের রহমান খোকন চৌধুরী চাঁদ উদ্যান এলাকায় জমি কেনাবেচার ব্যবসা করেন। তার বাড়ি ভোলা জেলায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, তার সঙ্গে স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের নেতৃত্বে শতাধিক কিশোর গ্যাং সদস্য এবং বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী ছিলেন।
সাজেদা নামে এক প্রত্যক্ষদর্শী নারী বলেন, ‘আমাদের বাড়ি এই জমির পাশেই। আমরা দাঁড়িয়ে ঘটনাটি দেখছিলাম। এ সময় আমাদেরও মারধর করা হয়েছে। বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে জহির নামে একজন ফোনে কথা বলছিলেন। তাকেও ঘরে ঢুকে মারধর করা হয়েছে।’
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, হামলার সময় নেতৃত্বে ছিলেন মোহাম্মদপুর থানার ৩৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক নুরুল ইসলাম নান্নু। তার সঙ্গে ছিলেন কর্মী নুরনবী দেওয়ান ও জামাল হোসেন। তাদের নির্দেশেই লুটপাট ও ভাঙচুর করা হয় বলে ওই সূত্র জানিয়েছে।
তবে হামলার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নুরুল ইসলাম। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না। তার ভাষ্য, ওই জমিতে থাকা স্থাপনা তিনি আলম হোসেনের ম্যানেজার সাদেকের কাছ থেকে কিনেছেন এবং গত চার মাস ধরে স্থাপনাটি ভেঙে নিচ্ছেন। জমির মালিকানা সম্পর্কে তিনি কিছু জানেন না বলেও দাবি করেন।
নুরুল ইসলাম আরও বলেন, স্থানীয় বিএনপি ও যুবদলের নামধারী কিছু লোক হামলা ও লুটপাট করেছে। তার দাবি, তৃতীয় একটি পক্ষ তাদের মদদ দিয়েছে, যারা এখন জমিটির মালিকানা দাবি করছে। লুটপাটের সময় তিনি যে মালামাল কিনেছিলেন, সেগুলোও নিয়ে যাওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল হালিম বলেন, শনিবার সকালে বেড়িবাঁধ এলাকায় একটি প্লট দখলের চেষ্টার ঘটনা ঘটে। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
তিনি বলেন, জমিটির মালিকানা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। পুলিশ সংশ্লিষ্টদের আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে। আদালত যে পক্ষের হয়ে রায় দেবেন, সেই পক্ষই জমিতে যেতে পারবে বলে জানান তিনি।
মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, চার ভবন গুঁড়িয়ে লুটপাট
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর মিরপুর ১ নম্বর সেকশনে বেসরকারি সংস্থা রাড্ডা এমসিএইচ-এফপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানকার চারটি অফিস ভবন গুঁড়িয়ে দিয়ে ভেতরের সবকিছু লুট করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, হামলার সময় ৪৫ লাখ টাকা মূল্যের একটি আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ১১ লাখ টাকা, জেনারেটর, তিনটি ফ্রিজ, তিনটি এসি, চারটি কম্পিউটার, প্রিন্টার, টিকা দেওয়ার সরঞ্জাম, দুটি টিভি এবং অন্যান্য আসবাবপত্র লুট করা হয়। এ ঘটনায় করা মামলায় বিএনপি নেতাসহ দুই শতাধিক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
তবে হামলা ও ভাঙচুরের পরও রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের চিকিৎসাসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হয়নি। ধ্বংসস্তূপের পাশে খোলা আকাশের নিচে বসেই স্থানীয়দের চিকিৎসা ও টিকা দিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপির কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাসব্যাপী চলমান হাম ও রুবেলার টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবারও শিশুদের খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে টিকা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে আসা সাধারণ রোগীদেরও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়।
তিন ঘণ্টা পুলিশ না আসার অভিযোগ
এদিকে রাতের আঁধারে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির জড়িত থাকার অভিযোগ করেছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ। একই ঘটনায় পুলিশের কাছে খবর দেওয়ার পরও তিন ঘণ্টা পর্যন্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে না আসার অভিযোগও উঠেছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আক্তার বলেন, গত শুক্রবার রাত ১২টা ৫ মিনিটের দিকে হামলা ও ভাঙচুর শুরু হয়। রাত আড়াইটার দিকে পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও রাত ৩টা পর্যন্ত ভাঙচুর ও লুটপাট চলে। ওই সময় ঘটনাস্থলে কোনো পুলিশ সদস্য ছিলেন না বলেও দাবি করেন তিনি।
নাসরিন আক্তারের ভাষ্য, ‘রাতে নিরাপত্তাকর্মীদের মারধর করে বেঁধে রাখা হয়েছিল এবং তাদের ফোন কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। এ কারণে আমরা সময়মতো পুলিশকে জানাতে পারিনি।’
পরে ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, এ ঘটনায় পুলিশের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কোনো দল বা মত বিবেচনায় নেওয়া হবে না; অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই দেখা হবে।
তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি।
তিনি বলেন, ‘আমি কোনোভাবেই এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত না। আমি অনুরোধ করব তদন্ত করে দেখা হোক। শুধু আমি কেন, এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী জড়িত না। আপনারা তদন্ত করে দেখেন।’
চারজন গ্রেপ্তার, দুটি গাড়ি উদ্ধার
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা হলেন—মো. সোহেল, মো. জুয়েল, মো. জিহাদ হাসান ও মো. রাবিব।
এ ছাড়া লুট হওয়া দুটি গাড়ি থেকে মালপত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তার চারজনকে পরে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ইসিবিতে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতে হামলা
রাজধানীর ইসিবি চত্বরে জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও হামলা, ব্যাপক ভাঙচুর ও মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঘটনাটি ঘটে বলে জানা গেছে।
স্টুডিওটির কর্মকর্তাদের অভিযোগ, হামলাকারীরা প্রয়োজনীয় বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে গেছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক স্টুডিওতে ঢুকে হামলা চালায়।
এ ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করেছেন সালমান মুক্তাদির। তার দাবি, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে প্রতিশোধ হিসেবে স্টুডিওতে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়েছে।
ঘটনার সময় সালমান মুক্তাদির ঢাকায় ছিলেন না। হামলার খবর পেয়ে বিমানে ঢাকায় ফেরেন তিনি। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি ও ক্ষয়ক্ষতি সম্পর্কে খোঁজ নেন এবং ফেসবুক লাইভে নিজের স্টুডিওর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরেন।
সালমান মুক্তাদিরের দাবি, হামলায় তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন এবং সৃজনশীল কাজের জায়গাটি ধ্বংস হয়ে গেছে। তবে এ ঘটনায় তিনি থেমে যাবেন না বলেও জানান।
অস্ত্র দেখিয়ে মোবাইল-মানিব্যাগ নেওয়ার অভিযোগ
সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওর এক কর্মকর্তা জানান, রাত সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ প্রায় এক থেকে দেড়শ লোক স্টুডিওতে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করে। তাদের কয়েকজনের হাতে চাপাতি ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে উঠলে স্টুডিওতে থাকা কর্মকর্তারা টয়লেটে গিয়ে আত্মগোপন করেন। হামলাকারীরা সেখানেও গিয়ে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন ও মানিব্যাগ নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, স্টুডিওতে থাকা বিভিন্ন প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে হামলার সময় স্টুডিওর কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী আহত হননি বলে জানা গেছে।
ফেসবুক লাইভে সালমান মুক্তাদির বলেন, স্টুডিওতে বিভিন্ন ক্লায়েন্টের শুটিংয়ের ফুটেজ, সরঞ্জাম এবং অন্যান্য কাজের উপকরণ রাখা ছিল। এসব নিয়ে যাওয়ায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বড় হতে পারে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
সালমান বলেন, ‘আমার পক্ষ থেকে একটা মামলা করতে হবে, ফরমালিটির জন্য। ক্লায়েন্টদের ডেলিভারি ধরলে, ওরা তো ওদের জিনিসপত্র এখানে রেখে গেছে। ওদের বিভিন্ন ফুটেজ থেকে শুরু করে অনেকগুলো শুট এখানে করা হয়। একটা শুটে কত খরচ, সেটা আপনারা জানেন। সেখানে ৩০-৪০টা ক্লায়েন্ট যখন সবকিছু নিয়ে যায়, কত ক্ষতি হতে পারে- এটা চোখ বন্ধ করেও একটা ধারণা করা যায়।’
পরে আরেকটি ফেসবুক লাইভে ধ্বংস হয়ে যাওয়া স্টুডিও দেখিয়ে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমাদের স্টুডিও ডেস্ট্রয় হয়ে গেছে।’
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশে সৃজনশীল কাজ এবং শিল্প-সংস্কৃতির জন্য এ ধরনের স্টুডিও খুব কম ছিল। হামলার ঘটনায় সেই স্টুডিওটিই ধ্বংস হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির বিরুদ্ধে সালমানের অভিযোগ
হামলার ঘটনায় বিএনপির লোকজন জড়িত বলে অভিযোগ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘বিএনপির লোকজন যারা করছে, এটা তোমাদের চাঁদাবাজি। কেন তোমরা আমার ড্রিমটা নষ্ট করছো?’
তবে তার এই অভিযোগের বিষয়ে বিএনপির সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ফেসবুক লাইভে প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের উদ্দেশে সালমান মুক্তাদিরকে বলতে শোনা যায়, ‘তোমরা রিলাক্স। এটা কিছুই না। আমরা এখানেই কাজ করব।’
হামলার পর কর্মীরা ভেঙে পড়লেও তাদের সান্ত্বনা দিতে দেখা যায় তাকে।
সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘আমি থেমে থাকব না। আমি আমার প্যাশন চালিয়ে যাব। দেশ থেকে না হলে দেশের বাইরে থেকে চালিয়ে যাব।’
হামলার ঘটনায় নিজের স্ত্রী, সহকর্মী এবং স্টুডিও নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের অবদানের কথাও তুলে ধরেন সালমান মুক্তাদির।
তিনি জানান, স্টুডিও তৈরির সময় তার স্ত্রী প্রতিদিন সেখানে এসে কাজের তদারকি করতেন। অন্যদিকে তার সহকর্মীদের অনেকে রাত জেগে নিরাপত্তার দায়িত্বও পালন করেছেন বলে জানান তিনি।
সালমান মুক্তাদির আরও বলেন, এ ঘটনায় তিনি ভয় পেয়ে সৃজনশীল কাজ বন্ধ করবেন না। তার ভাষায়, ‘আমি এর থেকে বড় কিছু করব।’
একই সঙ্গে কর্মীদের স্বাভাবিক হয়ে আবার কাজে ফিরে আসার আহ্বান জানান তিনি।
ফেসবুক লাইভে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে উদ্দেশ করে সালমান মুক্তাদির বলেন, ‘এই ভিডিওটি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জন্য বানাচ্ছি। বাংলাদেশে এটা খুবই স্বাভাবিক। এ দেশে কেউ কোনো দলের তোষামোদি না করলে তার নিরাপত্তা অনিশ্চিত।’
আরেকটি ভিডিওতে বিএনপির কর্মীদের উদ্দেশে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘চাঁদাবাজি করো আর যাই করো, তোমাদের অবস্থান এটুকুই থাকবে। এর চেয়ে বেশি কিছু করার সাধ্য তোমাদের নাই।’
হামলার ঘটনায় মামলা করার কথাও জানিয়েছেন সালমান মুক্তাদির। তবে মামলার ধরন, ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এবং হামলাকারীদের পরিচয় সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর তিন ঘটনায় উঠছে নানা প্রশ্ন
রাজধানীর তিন এলাকায় একই সময়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ সামনে এসেছে। মোহাম্মদপুরে একটি জমি দখলের চেষ্টা ও স্থানীয়দের ওপর হামলার অভিযোগ রয়েছে। মিরপুরে স্বাস্থ্যসেবা ও টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনাকারী একটি প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা গুঁড়িয়ে দিয়ে বিপুল পরিমাণ মালামাল লুটের অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে ইসিবিতে কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের সৃজনশীল কাজের স্টুডিওতে হামলা, ভাঙচুর ও মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মিরপুরের ঘটনায় পুলিশ ইতোমধ্যে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং তদন্ত চলছে। অন্য দুটি ঘটনায়ও কারা হামলার সঙ্গে জড়িত, অভিযোগগুলোর সত্যতা কতটা এবং এসব ঘটনার নেপথ্যে কারা রয়েছে—তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি সামনে এসেছে।