
গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করতে গিয়ে অভিনব এক ঘটনার মুখোমুখি হয়েছে পুলিশ। আসরের নামাজে ইমামতি করার অনুমতি নিয়ে নামাজ শুরু করলেও দ্বিতীয় রাকাতে সিজদারত মুসল্লিদের রেখে পেছনের পথ দিয়ে পালিয়ে যান গোলাম আজম (৪৫) নামে এক আসামি। তবে দুই দিন পর তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে আবার গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৭ জুন) সকালে রাজধানীর পল্টন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসন আইন, ২০১৩-এর অধীনে করা একটি মামলায় গোলাম আজমের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছিল। তিনি ‘রিকাব ইন্টারন্যাশনাল ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’-এর স্বত্বাধিকারী।
মামলার পরোয়ানা কার্যকর করতে গত সোমবার পুরানা পল্টনে তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে যায় পল্টন থানা পুলিশ। এ সময় গোলাম আজম আসরের নামাজ আদায়ের অনুমতি চান। পুলিশ অনুমতি দিলে তিনি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে নামাজে ইমামতি শুরু করেন। কিন্তু দ্বিতীয় রাকাতে সিজদা থেকে উঠে মুসল্লিদের রেখে পেছনের দিক দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।
পল্টন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তফা কামাল একটি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আসামি পুলিশের কাছে আসরের নামাজ পড়ার অনুমতি চান। পুলিশ অনুমতি দিলে আসামি তার অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে নামাজের ইমামতি করা শুরু করেন। কিন্তু দ্বিতীয় রাকাতে সিজদা থেকে উঠে মুসল্লিদের রেখে পেছনের দিক দিয়ে দৌড়ে পালিয়ে যান।’
পরে বুধবার (১৭ জুন) সকালে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আবার অভিযান চালিয়ে নিজ বাসভবন থেকে গোলাম আজমকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গোলাম আজম দীর্ঘদিন ধরে জনশক্তি রপ্তানি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তার বিরুদ্ধে মানবপাচারসংক্রান্ত একাধিক অভিযোগও রয়েছে। মামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট বিষয় তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।