
রাজধানীর ব্যস্ততম শাহবাগ এলাকায় ফুটপাত ও সড়কের ওপর যত্রতত্র বর্জ্য নিক্ষেপ বন্ধ এবং সাধারণ মানুষের মাঝে পরিচ্ছন্নতার বার্তা পৌঁছে দিতে এক ঝটিকা অভিযানে নেমেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
আজ রোববার (১৪ জুন) রাতে শাহবাগের স্থায়ী ও অস্থায়ী দোকানপাটে এই আকস্মিক পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
রাতের এই পরিদর্শনে শাহবাগের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সামনে যত্রতত্র আবর্জনা স্তূপাকার করে রাখা দেখে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। এ সময় তিনি নিজে দাঁড়িয়ে থেকে নোংরা পরিবেশের জন্য সরাসরি সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে সতর্ক করেন।
পরিবেশ দূষণ রোধে কেবল সতর্কতাই নয়, বরং ব্যবসায়ীদের সুঅভ্যাস গড়ে তোলার তাগিদে প্রতিমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে দোকানিদের মাঝে ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য ডাস্টবিন বিতরণ করা হয়। এর পাশাপাশি যেখানে-সেখানে ময়লা ফেলে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করার অপরাধে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে একটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়। স্পটেই আইন অমান্যকারী ৯ জন দোকানিকে হাতেনাতে ধরে সর্বমোট ১৯ হাজার ৫০০ টাকা আর্থিক জরিমানা করা হয়।
অভিযান চলাকালে পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, “আমরা বলছি না যে রাতারাতি ঢাকা শহরকে সিঙ্গাপুর বা ইউরোপের মতো পরিচ্ছন্ন করে ফেলবো। কিন্তু আমাদের ঢাকাকে নিজেদের মতো করে পরিচ্ছন্ন ও সাধারণ মানুষের বসবাসযোগ্য রাখতে চাই।”
নাগরিকদের ওপর জরিমানা আরোপের আইনি প্রসঙ্গে তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, “গণতান্ত্রিক সরকার হিসেবে আমরা কোনো নাগরিকের ওপর জুলুম করতে চাই না। তবে আমরা প্রত্যাশা করি, নাগরিকরা যেখানে-সেখানে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে জমিয়ে রাখবেন, যেখান থেকে সিটি কর্পোরেশন তা সংগ্রহ করবে।”
দেশের একজন দায়িত্বশীল ও সুনাগরিক হিসেবে সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে পরিচ্ছন্নতার এই সুঅভ্যাস নিয়মিত চর্চা করার উদাত্ত আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে নাগরিক সচেতনতা ও সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে তিনি গণমাধ্যমের আন্তরিক ও জোরালো সহযোগিতা কামনা করেন।
বিশেষ এই সচেতনতামূলক ও শাস্তিমূলক অভিযানে প্রতিমন্ত্রীর সাথে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলাম, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মো. মাহাবুবুর রহমান তালুকদারসহ স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।