
মোবাইল ফোনে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের ভয় দেখিয়ে পাঠানো একটি ভুয়া এসএমএসের ফাঁদে পড়ে এক ভুক্তভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। একই ধরনের প্রতারণা চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করেছে অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
ব্যস্ত সময়ের মধ্যে হঠাৎ মোবাইলে আসে একটি বার্তা—‘আপনার গাড়ি ট্রাফিক সিগন্যাল অমান্য করেছে। জরিমানা পরিশোধ না করলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ সঙ্গে দেওয়া থাকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) আদলে তৈরি একটি লিংক। সরকারি প্রতিষ্ঠান ও আইনি ঝামেলার ভয় দেখিয়ে অনেকেই ওই লিংকে প্রবেশ করেন।
লিংকে প্রবেশ করলে বিআরটিএর মতো দেখতে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে জরিমানা পরিশোধের কথা বলে ব্যাংক কার্ডের তথ্য চাওয়া হয়। পরে ওটিপি সংগ্রহের মাধ্যমে মুহূর্তেই ব্যাংক হিসাব থেকে টাকা হাতিয়ে নেয় প্রতারক চক্র।
সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের সাইবার ইন্টেলিজেন্স অ্যান্ড রিস্ক ম্যানেজমেন্টের একাধিক দল প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে খুলনা, ফেনী ও ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতাররা হলেন মো. রাব্বি শেখ (২৪), মো. রিয়াদ হোসেন (৩১) ও মো. সাজ্জাদ হোসেন (৩১)।
সিআইডি জানায়, প্রথমে খুলনার বটিয়াঘাটা এলাকা থেকে রাব্বি শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফেনী সদর এলাকা থেকে রিয়াদ হোসেন এবং ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে সাজ্জাদ হোসেনকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, এক ভুক্তভোগী তার মোবাইলে বিআরটিএর নামে ট্রাফিক জরিমানা ও মামলা সংক্রান্ত এসএমএস পান। লিংকে গিয়ে তিনি দেখতে পান তার অফিসের গাড়ির বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তিন হাজার টাকা জরিমানা হয়েছে। তবে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ করলে দেড় হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানানো হয়।
এটি সত্য ভেবে তিনি জরিমানা পরিশোধের জন্য একটি অনলাইন পেমেন্ট পোর্টালে প্রবেশ করেন এবং সেখানে স্ত্রীর ক্রেডিট কার্ডের তথ্য, ব্যাংক অ্যাপের লগইন তথ্য ও ওটিপি প্রদান করেন। পরে তিনি দেখেন জরিমানা পরিশোধের পরিবর্তে তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব থেকে প্রতারণার মাধ্যমে তিন লাখ টাকা অন্য একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেছে।
পরে তিনি সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারে অভিযোগ করেন। একই ধরনের আরও দুটি অভিযোগ পর্যালোচনা করে সিআইডি জানতে পারে, চক্রটি ভুয়া ট্রাফিক মামলা ও জরিমানার ভয় দেখিয়ে ফিশিং লিংকের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করে অর্থ আত্মসাৎ করত।
এ ঘটনায় উত্তরা পশ্চিম থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে।
তদন্তে আরও জানা যায়, প্রতারক চক্রটি বিআরটিএর আদলে ভুয়া ওয়েবসাইট তৈরি করে মোবাইলে ভীতিকর বার্তা পাঠাত। এরপর জরিমানা পরিশোধ বা যাচাইয়ের নামে ব্যাংক কার্ডের তথ্য, ব্যক্তিগত তথ্য ও ওটিপি সংগ্রহ করে অননুমোদিত লেনদেনের মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ করত।
এ পর্যন্ত একই কৌশলে চক্রটি বিভিন্ন ভুক্তভোগীর কাছ থেকে মোট ৭ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারদের বিরুদ্ধে প্রতারণামূলক কার্যক্রমে জড়িত থাকার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং চক্রের অন্য সদস্যদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান চলছে।
সিআইডি জনগণকে এ ধরনের ফিশিং প্রতারণা থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে আসা কোনো এসএমএস বা লিংকে প্রবেশের আগে অফিসিয়াল ওয়েবসাইট থেকে তথ্য যাচাই করার এবং অপরিচিত সাইটে ব্যাংক তথ্য, পিন বা ওটিপি শেয়ার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।