
রাজধানীর বুকে গভীর রাতে অপরাধীদের ধরতে গিয়ে চরম বিপদের মুখে পড়েছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শেরেবাংলা নগরের জিয়া উদ্যান এলাকায় ছিনতাইকারীদের ধরতে গিয়ে তাদের ধারালো চুরির আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন এক উপ-পরিদর্শক (এসআই) এবং এক কনস্টেবল। তবে নিজেদের জীবন বাজি রেখে ঘটনাস্থল থেকেই দুই ছিনতাইকারীকে ধরে ফেলতে সক্ষম হয়েছে পুলিশ।
গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে জিয়া উদ্যানের গ্লাস ব্রিজের ঠিক সামনে এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনাটি ঘটে।
হামলায় মারাত্মক আহত দুই পুলিশ সদস্য হলেন— শেরেবাংলা নগর থানায় কর্মরত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) সামসুজ্জোহা (৩৪) এবং কনস্টেবল মোহাম্মদ হৃদয় হোসেন (২০)।
পুলিশ প্রশাসন ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে তিন অজ্ঞাতপরিচয় দুষ্কৃতকারী এক ব্যক্তির ওপর ছিনতাই চালিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাযোগে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিল। ওই সময় ওই এলাকায় দায়িত্বরত টহল পুলিশের একটি দল মোটরসাইকেল নিয়ে ছিনতাইকারীদের পিছু ধাওয়া করে। কিছু দূর তাড়া করার পর পুলিশ সদস্যরা তিন ছিনতাইকারীকে কর্ডন করে অবরুদ্ধ করে ফেলেন। ঠিক তখনই নিজেদের বাঁচাতে আকস্মিকভাবে এক ছিনতাইকারী ধারালো ছুরি বের করে দুই পুলিশ সদস্যের ওপর চড়াও হয় এবং এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এই ধস্তাধস্তির মাঝেই পুলিশ সাহসিকতার সাথে জড়িত দুই অপরাধীকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করতে সমর্থ হয়।
পরবর্তীতে ঘটনার খবর পেয়ে শেরেবাংলা নগর থানার অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় সহকর্মীদের উদ্ধার করে নিকটস্থ শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর অবস্থার গভীরতা বিবেচনায় উন্নত চিকিৎসার স্বার্থে রাত আড়াইটার দিকে তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরি বিভাগে স্থানান্তর করা হয়। আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা বর্তমানে ঢামেক জরুরি বিভাগের ৪ নম্বর ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহতদের শারীরিক অবস্থা ও সার্বিক বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহমুদুল হাসান জানান, "রাতে ডিউটির সময় দুই পুলিশ সদস্য ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়েছেন। আহত দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।"
এদিকে ঘটনার সাথে জড়িত আটককৃত দুই ছিনতাইকারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং অন্ধকার সুযোগ নিয়ে পালিয়ে যাওয়া তৃতীয় আসামিকে গ্রেপ্তারে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশ।