
নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো প্রকল্পে বিনিয়োগের নামে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার মো. ওবায়েদুল্লাহ ভোলার শশীভূষণ থানার জাহানপুর এলাকার বাসিন্দা। গতকাল সোমবার ঢাকার বাসাবো এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) জসীম উদ্দিন খান জানান, নাজরান ফিশারিজ অ্যান্ড এগ্রো নামে ভুয়া প্রকল্পে অধিক মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে অর্থ নিত একটি চক্র। এক লাখ টাকা বিনিয়োগে মাসে তিন হাজার টাকা লাভ এবং ৩৩ মাসে মূলধন দ্বিগুণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হতো। ২০২৩ সালের মে মাসে রাজধানীর কুড়িল চৌরাস্তায় ওই প্রতিষ্ঠানের কার্যালয়ে গিয়ে এক নারী ও তার বান্ধবীরা বিনিয়োগ করেন। এই মামলার বাদী সাত লাখ এবং তার দুই বান্ধবী পাঁচ লাখ টাকা করে দেন।
আস্থা অর্জনে তাদের ৪২ হাজার টাকা মুনাফাও দেয় চক্রটি। এরপর ওই বছরের জুলাইয়ে ব্যাংকের মাধ্যমে আরও ৫০ লাখ টাকা বিনিয়োগ করেন তারা। পরবর্তীতে প্লট কেনার কথা বলে বাদী ও তার দুই বান্ধবীর কাছ থেকে মোট ১ কোটি ৬৩ লাখ ৯৮ হাজার টাকা নেওয়া হয়। এর মধ্যে ১৮ লাখ ৭২ হাজার টাকা মুনাফা হিসেবে ফেরত দিলেও পরে অফিস গুটিয়ে আত্মগোপন করে প্রতারক চক্র। মামলার পর অভিযুক্তরা মোবাইল ফোন নম্বরও বন্ধ রাখেন। প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে অবস্থান শনাক্ত করে বাসাবোতে অভিযান চালিয়ে তাদের একজনকে গ্রেপ্তার সম্ভব হয়েছে।
তিনি জানান, তদন্তে সিআইডি জানতে পারে, একই কৌশলে বহু মানুষের কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির চারটি ব্যাংক হিসাব ও সার্ভার তথ্য বিশ্লেষণে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা বিনিয়োগের তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তির ১৪টি ব্যাংক হিসাবে প্রায় আড়াই কোটি টাকার লেনদেন শনাক্ত হয়েছে।
সিআইডি জানায়, গ্রেপ্তার আসামির বিরুদ্ধে ভাটারা, উত্তরা পশ্চিম ও সাভার এলাকায় একাধিক মামলা রয়েছে এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছেন।
২০২৫ সালের মে মাসে প্রায় ১৫ হাজার ভুক্তভোগী ৮০০ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করেন বলেও জানিয়েছে সিআইডি।