
ঢাকার কেরানীগঞ্জে প্রায় ২০ দিন ধরে নিখোঁজ থাকা এক মা ও তার কিশোরী মেয়ের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ, যা পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বৃহস্পতিবার ১৬ জানুয়ারি রাতে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তির বাগ এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। নিহতরা হলেন রোকেয়া রহমান ৩২ এবং তার মেয়ে ফাতেমা ১৪। ফাতেমা স্থানীয় একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ছিল। রোকেয়া রহমান ছিলেন আইনজীবী মো. শাহীন মিয়ার স্ত্রী।
পারিবারিক সূত্র জানায়, গত ২৫ ডিসেম্বর রোকেয়া রহমান ও তার মেয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় মো. শাহীন মিয়া কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও তাদের কোনো সন্ধান না মেলায় উদ্বিগ্ন ছিল পরিবার।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কালিন্দী ইউনিয়নের মুক্তির বাগ এলাকায় শামীম মিয়ার মালিকানাধীন একটি পাঁচতলা ভবনের দ্বিতীয় তলায় ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিমের ভাড়া বাসা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। ফ্ল্যাট থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার উপপরিদর্শক মো. রনি চৌধুরী জানান, ফ্ল্যাটের একটি কক্ষের খাটের নিচে রোকেয়া রহমানের মরদেহ পাওয়া যায় এবং বাথরুমের সানসেট থেকে উদ্ধার করা হয় তার মেয়ে ফাতেমার লাশ। ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে ফাতেমার গৃহশিক্ষিকা মিমসহ চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। উদ্ধার করা মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে নিহতদের স্বজনদের অভিযোগ, নিখোঁজের পর থানায় জানানো হলেও তারা পর্যাপ্ত সহায়তা পাননি। এমন নির্মম হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।