
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি গঠনের দাবিতে চলমান আন্দোলন ঘিরে রাজধানীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। টানা দ্বিতীয় দিনের মতো সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড় অবরোধের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাস ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে।
বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে দুপুর পৌনে ১টার দিকে সায়েন্স ল্যাবরেটরি মোড়ে অবস্থান নেন আন্দোলনকারীরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, অবরোধের কারণে আটকে থাকা একটি বাস দুপুর আড়াইটার দিকে ভাঙচুরের শিকার হয়।
ঘটনার সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর রফিকুল ইসলাম বলেন, “অর্জন নামের বাসটি লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়ায় দুটি জানালার কাচ ভেঙেছে। বাসের বহিরাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমাদের দুইজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
“বাসটি হাজারীবাগে অবস্থিত লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি ইনস্টিটিউট থেকে ক্যাম্পাস রুটে শিক্ষার্থীদের আনা নেওয়া করে। দুপুরের ট্রিপ চলাকালে সায়েন্সল্যাবে আন্দোলনকারীদের ভাঙচুরের শিকার হয় সেটি। বাসটি বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে রয়েছে।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, অবরোধে আটকে পড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটিকে ঘিরে দুই পক্ষের তরুণদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি ও হুড়োহুড়ি শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে এবং বাসটির দিকে ধাওয়া দিয়ে ঢিল ছোড়ে। কেউ কেউ জুতা নিক্ষেপ করতেও দেখা যায়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন দপ্তরের পরিচালক কামরুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, “বাসের পেছনের গ্লাস পুরো ভেঙে গেছে, দরজা, বাইরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মবের মধ্যে পড়েছে, আমাদের কিছু করার ছিল না।”
ভাঙচুরের শিকার বাসে থাকা রাইসুল ইসলাম নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী ফেসবুকে লেখেন, “ঢাকা কলেজ তিন-চারদিন ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসটি আটকে রেখেছিল। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম সেখানে গিয়ে বাসটি বের করে আনলে, সেখানে তারা ইটপাটকেল ছোড়েন।”
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ডাকসুর সাহিত্য সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মুহাম্মদ ফেসবুকে লেখেন, “আন্দোলনের নামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের উপরে নৃশংস হামলা ও বাসে ভাঙচুর চালিয়েছে। এই হামলার সঙ্গে জড়িতদেরকে ভিডিও ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।”